রোজদিন ডেস্ক :
শিলিগুড়ির কাছে বাগডোগরায় গরুচোর সন্দেহে (Bagdogra Lynching) গণপিটুনিতে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজন হাসপাতালে ভর্তি। আজ কাকভোরে এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত করছে। এসিপি অনির্বাণ মজুমদার জানিয়েছেন, আজ কাকভোরে মাটিগাড়ার কাছে তারাবাড়িতে এই ঘটনা হয়। গণপিটুনিতে নিহত সাহিদ আখতার, চোপড়ার বাসিন্দা। অন্যজন সাদ মহম্মদ, হরিয়ানার বাসিন্দা।
সন্দেহভাজন গরুচোরদের একটি গাড়িতেও উত্তেজিত জনতা আগুন ধরিয়ে দেয়। আর একটি গাড়িও ভাঙচুর করে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রায় সকলেই অন্য রাজ্যের বলে পুলিশ জানান।
পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গরু চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক ও প্রস্তুত ছিলেন। ভোরের আলো ফুটতে তখনও দেরি।। অভিযোগ, ৫/৬ জনের একটি দল চুপিসারে এলাকায় এসে বেশ কয়েকটি গরু চুরি করে সঙ্গে আনা পিক আপ ভ্যানে তোলার চেষ্টা করে। স্থানীয় মানুষ তা টের পেয়ে বেরিয়ে এসে তাঁদের ঘিরে ফেলে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
ওই সময় আরও একটি গাড়িতে দুজন আসেন। ক্ষুব্ধ স্থানীয় মানুষ তাঁদের সবাইকেই বেধড়ক মারধর করেন। পিক আপ ভ্যানে আগুন দিলে তা ভস্মীভূত হয়ে যায়। অপর চারচাকা গাড়িতেও ভাঙচুর করে তা উলটে দেন।
ওই এলাকা বাগডোগরা, মাটিগাড়া ও পানিঘাটা র সংলগ্ন হওয়ায় তিন থানার পুলিশই যায়। গুরুতর আহত দের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। গণপিটুনিতে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত চারজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।। আরও দুই সন্দেহভাজন গোলমালের সময় পালিয়ে যায়।
এসিপি অনির্বাণ মজুমদার জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ ও নিজের হাতে আইন তুলে পিটিয়ে খুন, উভয় দিক খতিয়ে দেখে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী সব হবে বলে তিনি জানিয়ে দেন।
এই ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা আছে। পরিস্থিতি এখনও থমথমে।

Be the first to comment