রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- এবছর ৬২৯ বছরে পদাপর্ণ করল বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাহেশের রথ। রাধারানির স্রষ্টা বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত ও নানা মনীষীর ছোঁয়ায় মাহেশের রথের ভারত জোড়া খ্যাতি।
একটু ইতিহাস দেখে নেওয়া যাক। প্রথম দিকে এটি ছিল কাঠের রথ। বর্তমানে লোহার তৈরি রথ টানা হয়। রথে যে জগন্নাথ, বলভদ্র ও শুভদ্রার মূর্তি রয়েছে, সেটা ১৩৯ বছরের পুরোনো। হুগলির দেওয়ান রাজা কৃষ্ণচন্দ্র বসু তৎকালীন সময়ে ২০ হাজার টাকা খরচ করে মার্টিন বার্ন কোম্পানিকে দিয়ে এই রথ তৈরি করেছিলেন। রথের চারদিকে কাঠের পাটাতন দিয়ে ঘেরা। রথের উচ্চতা ৫০ ফুট। রথের উপরে মোট ৯টি চূড়া রয়েছে। তার মধ্যে ৮টি চূড়া আকারে একটু ছোট। প্রধান চূড়াটি একটু বড় সাইজের। রথে রয়েছে ১২টি বড় বড় লোহার চাকা। রথের সামনে থাকে তামার তৈরি দুটি নীল ও সাদা রঙের ঘোড়া। গোটা রথের ওজন প্রায় ১২৫ টন।
আগে মাহেশের জগন্নাথ মন্দির ছিল গঙ্গার ধারে। ভাঙনে মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরবর্তী সময়ে জিটি রোডের দিকে মন্দির স্থানান্তরিত করা হয়। ১৭৫৫ সালে কলকাতার পাথুরিয়াঘাটার নয়নচাঁদ মল্লিক ব্যাক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে জিটি রোডের পাশে জগন্নাথ মন্দির তৈরি করে দেন। জগন্নাথ মন্দির থেকে জিটি রোড ধরে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মাসির বাড়ি পৌঁছায় রথ। রথের রক্ষণাবেক্ষণ করেন দেওয়ানের বংশধর শ্যামবাজারের বসু পরিবার।

Be the first to comment