‘কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে কোনও টাকা দেবে না, এটা তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’, বিধানসভায় বললেন মমতা

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- সাম্প্রতিক সময় বারবার রাজ্যকে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ না-দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের শাসকদল। একশো দিনের কাজ থেকে শুরু করে গ্রামীণ আবাস যোজনা, গ্রামীণ রাস্তা সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ নতুন নয়। এই অবস্থায় সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আরও একবার এই নিয়ে সরব হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে কোনও টাকা দেবে না। এটা তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।’’
এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বে একশো দিনের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন বিধায়ক তরুণ মাইতি। পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার এই নিয়ে উত্তর দেন। তারপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই নিয়ে বলতে শুরু করেন। প্রদীপ মজুমদার নিজেও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছিলেন। একইভাবে মুখ্যমন্ত্রীও তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ধরেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘গত চার বছরে গ্রামীণ আবাস যোজনা, ১০০ দিনের প্রকল্প ও গ্রামীণ রাস্তায় কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের কোনও পয়সা দেয়নি। কিন্তু আমাদের টাকা অন্য রাজ্যকে দেওয়া হয়েছে। এটা একটা নৈতিক অন্যায় এবং অপরাধও।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘কিছু অভিযোগ ওঁরা পেয়েছিলেন। তার পরিবর্তে ১৫৫ থেকে ১৫৬টি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল বাংলায় এসেছে। এক্ষেত্রে তারা যে যে ব্যাখ্যা চেয়েছে, সবকিছু তথ্যই তাদের দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও একটা টাকাও আমাদের দেওয়া হয়নি। সমস্ত তথ্য দেওয়া সত্ত্বেও বাংলাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’’
এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘‘অভিযোগ মধ্যপ্রদেশেও হয়েছে, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশেও অভিযোগ আছে। অভিযোগ গুজরাতেও আছে। সেখানে কতগুলো টিম পাঠানো হয়েছে?’’ এর পর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘‘আপনি কাউকে কাজ করালে তাঁকে টাকা দিতে বাধ্য।’’
সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘তাঁরা কাজ করলেন, অথচ টাকা পেলেন না। এরপরেও যাঁরা এর জন্য দিল্লিতে দরবার করতে গিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে একজন হাফ মিনিস্টার টাইম দিয়েও চার ঘণ্টা বসিয়ে রেখে দেখা করেননি। উল্টে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশে মামলা হয়েছে। বাংলার মানুষকে এই টাকাগুলো আমরাই দিয়েছি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে কোনও টাকা দেবে না। এটা তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। বাংলাকে বঞ্চনা করার জন্য এসব করা হচ্ছে।’’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*