‘মেধার ভিত্তিতে পোস্টিং হয় নাকি যেখানে খুশি পাঠিয়ে দেওয়া হয়’? অনিকেতের করা মামলায় রাজ্যকে প্রশ্ন আদালতের

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- মেধার ভিত্তিতে পোস্টিং হয় নাকি যেখানে খুশি পাঠিয়ে দেওয়া হয়? আরজি কর আন্দোলনের তিন চিকিৎসকের পোস্টিং মামলায় রাজ্যের কাছে প্রশ্ন কলকাতা হাইকোর্টের। ‘তিন চিকিৎসককে পোস্টিংয়ের সিদ্ধান্ত বা পোস্টিংয়ের পদ্ধতির ন্যায্যতা কী ভাবে প্রমাণ করবেন?’, সোমবার রাজ্যের কাছে প্রশ্ন রাখেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। একই সঙ্গে আদালত মৌখিক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, অনিকেত এখনই নতুন পোস্টিং না নিলেও, তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্য কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করবে না বলেই আশা রাখছে কোর্ট। মঙ্গলবার ফের এই মামলার শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম তিন মুখ অনিকেত মাহাতো, দেবাশিস হালদার ও আসফাকুল্লা6 নাইয়াকে সম্প্রতি প্রথম পোস্টিংয়ের জায়গা থেকে অন্যত্র পোস্টিং করা হয়েছে। আসফাকুল্লা ও দেবাশিস নতুন কর্মস্থলে যোগ দিলেও, যোগ দেননি অনিকেত মাহাতো। তবে বদলির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তিন জনই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ, কাউন্সেলিংয়ের নিয়ম না মেনে বদলি করেছে স্বাস্থ্যভবন।
এদিকে, সোমবার অনিকেত মাহাতোর মামলায় রাজ্যের রিপোর্ট তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। অনিকেত মাহাতোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে হলফনামা আকারে রিপোর্ট দেবে রাজ্য। বাকি দুই চিকিৎসক, দেবাশিস হালদার ও আসফাকুল্লা নাইয়ার মামলাতেও আগামী সোমবারের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে রাজ্যকে। এদিন এমনই নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট।
অন্যদিকে রাজ্যের আশ্বাসের ভিত্তিতে মৌখিক পর্যবেক্ষণে বিচারপতি জানান, আরজি করের অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগে যে শূন্যপদ রয়েছে, আগামী সোমবার পর্যন্ত তাতে নিয়োগ করবে না রাজ্য। আদালতে অনিকেত মাহাতোর দাবি করেছেন, তাঁর র‍্যাঙ্ক ২৪। আরজি কর হাসপাতালে অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগে ৪টি শূন্যপদ আছে। তার মধ্যে ২টি শূন্যপদে ২৬ এবং ৩৪ র‍্যাঙ্ক করা দুই চিকিৎসককে নিয়োগ করা হয়েছে। অথচ অনিকেত নিয়োগ পাননি।
এই পদক্ষেপের ন্যায্যতা কী ভাবে প্রমাণ করবেন?, রাজ্যকে প্রশ্ন করেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। অন্যদিকে অনিকেত মাহাতোর আইনজীবী এ দিন তাঁর মক্কেলের হয়ে সওয়াল করেন, অনিকেতের বিরুদ্ধে যেন কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না করা হয়। আর মামলা চলাকালীন যেন আরজি কর হাসপাতালেই কাজ করতে দেওয়া হয়। বিচারপতি রাজ্যের কাছে জানতে চান, ‘আপনারা কি মেধাভিত্তিক নিয়োগ করেন? নাকি যাকে যেখানে পছন্দ তাঁকে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়?’। এরপরই আদালত জানায় মঙ্গলবার ফের এই মামলা শুনা হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*