ভোটগণনাকে স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত রাখতে একগুচ্ছ ব্যবস্থা কমিশনের, ঘোষণা সিইও-র

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : ভোটগণনার আগে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে ফের কড়া বার্তা দিলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও মনোজ আগরওয়াল। রাতে রাজ্যের সমস্ত অবজর্ভার, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) এবং রিটার্নিং অফিসারদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন তিনি। সূত্রের খবর, গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ১৬৩ ধারার প্রয়োগ, বিজয় মিছিল এবং ফলতার পরিস্থিতি, সব কিছুই ওই বৈঠকে আলোচিত হবে।

সিইও বলেন, গণনাকেন্দ্রের তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে কেউ ভিতরে ঢুকে পড়লে বা অনভিপ্রেত কিছু পৌঁছে গেলে তার দায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর। গণনার দিনে কোনও ফাঁকফোকর রাখা যাবে না বলেও তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করেছেন। অধিকাংশ জেলার ডিইও-দের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে যে ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে, পরিস্থিতি খারাপ হলে সেই সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। অর্থাৎ প্রয়োজন হলে নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানো হবে।

গণনার দিনে বিজয় মিছিল হবে কি না, সে বিষয়েও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ডিইও এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রিটার্নিং অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে আন্ডারটেকিং নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সিইও। তাঁর কথায়, তাঁরা নিয়মকানুন পড়ে বুঝে নিয়েছেন। যদি তাঁদের তরফে কোনও ভুল হয়, তবে কমিশন পদক্ষেপ করতে পারবে। গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই ব্যবস্থা।

ফলতার পুনর্নির্বাচন নিয়ে আলাদা করে নজর রাখা হচ্ছে। ২১ মে সেখানে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে অজয় পাল শর্মা দায়িত্বে থাকবেন কি না, তা কমিশন পরে সিদ্ধান্ত নেবে।

ফলতা কেন্দ্র ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট করেন সিইও। জানান, ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পর ফলতা বিধানসভার ওয়েবকাস্টিং ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে। কীভাবে কোন ঘটনা ঘটেছে, তা পর্যালোচনা করা হবে।

কোনও সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে যোগসাজশ বা গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

গণনার দিনে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হচ্ছে। গড়ে প্রতিটি গণনা কেন্দ্রে প্রায় দু’কোম্পানি করে বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

২০২১ সালের লোডশেডিং সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে আগেভাগেই বিদ্যুৎ দফতরের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে কমিশন। যাতে বিদ্যুৎ চলে গেলেও গণনা প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য জেনারেটরেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই পাওয়ার ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির সঙ্গে আরও এক দফা কথা বলবেন সিইও।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*