সিআইএসএফ থেকে বিএসএফ কর্তাদের বদলি নয় কেন, প্রশ্ন উঠল হাইকোর্টে

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : নির্বাচন কমিশনের যত সমস্যা রাজ্যের আমলা ও পুলিশকর্তাদের নিয়ে। বেছে বেছে শুধু তাঁদের বদলি করা হলেও সিআইএসএফ বা বিএসএফ কর্তাদের বদলি হচ্ছে না কেন? শুক্রবার সেই প্রশ্নই উঠল কলকাতা হাইকোর্টে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন আবাধ ও সুষ্ঠু পরিচালনার লক্ষে নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই কয়েক ধাপে রাজ্যের একাধিক আইপিএস ও আইএএসকে বদলি করেছে কমিশন। ভোট পরিচালনার জন্য সেই জায়গায় ভিন রাজ্য থেকে পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের আনা হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টে। মামলা করেন আইনজীবী অর্ক কুমার নাগ। এদিন সেই মামলার শুনানিতে সিআইএসএফ ও বিএসএফ কর্তাদের বদলি না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, কেন সিআইএসএফ-এর ডিজিকে ট্রান্সফার করা হল না? কেন বিএসএফ-এর ডিজিকে ট্রান্সফার করা হয়নি? তাঁরর দাবি, কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার শীর্ষকর্তাকে ট্রান্সফার করা হয়নি কেন? নির্বাচন কমিশন এই বদলির বিজ্ঞপ্তি জারির আগে কেন বলেনি যে ডিজি, সিপি, সিএস ঠিক করে কাজ করছেন না? তাঁর যুক্তি, শুধু নির্বাচন পরিচালনা করার দায়িত্ব মুখ্যসচিবের নয়। তাঁর দায়িত্ব গোটা রাজ্যের সমস্ত কাজ সঠিক ভাবে পরিচালনা করা। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত বলেন, ডিজি, আইজিপিকে কি করণিক বলা যায়? সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ক্লারিক্যাল স্টাফদের ক্ষেত্রে রদবদল করতে পারে। যদিও আদালতে কমিশনের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের থেকেও বেশি আইএএস ও আইপিএস বদল করা হয়েছে অন্যান্য রাজ্যে। এজি কিশোর দত্ত ও মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের পাল্টা কমিশনের আইনজীবী জানান, সাম্প্রতিক অতীতে অন্যান্য রাজ্যগুলিতে বিধানসভা নির্বাচনের সময় পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অনেক বেশি আমলা ও পুলিশকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বিহারে গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে ৪৮ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়। কমিশনের আইনজীবী জানান, মহারাষ্ট্রে ৬১, উত্তরপ্রদেশে ৮৩, মধ্যপ্রদেশে ৪৯ জনকে বদলি করা হয়েছিল। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ২৩ জন আমলা ও পুলিশ কর্তাকে বদলি করা হয়েছে। আদালত সেই নথি চেয়েছে। সেই নথি খতিয়ে দেখার পর মামলার রায় দেবে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। এদিন রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*