রোজদিন ডেস্ক : বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের বেশ কিছু এলাকা থেকে হিংসা ও অশান্তির ঘটনা সামনে আসার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের উপর নজরদারি আরও কঠোর করছে। সাব-ডিভিশনাল ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট থেকে শুরু করে থানার ওসি, সব স্তরের আধিকারিকদের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সিইও দফতর থেকে জারি করা নির্দেশে বলা হয়েছে, গত নির্বাচনের সময় হওয়া অপরাধমূলক মামলাগুলির তদন্ত দ্রুত শেষ করে চার্জশিট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সমস্ত জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা এবং পলাতক অভিযুক্তদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের ধরতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সম্ভাব্য দুষ্কৃতী, দাগি অপরাধী ও নির্বাচনী হিংসায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও মহকুমার মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক করে তথ্য আদানপ্রদান বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। ওসিদের জন্য পৃথক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শান্তি বজায় রাখতে সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল, সভা, সব ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আন্তঃজেলা ও আন্তঃরাজ্য সীমান্তে নাকা চেকিং জোরদার, যানবাহনে তল্লাশি এবং সিসিটিভি নজরদারি চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে ২৪ ঘণ্টা টহলদারি চালানো, মাদক বা অবৈধ মদের পাচার রুখতে বিশেষ নজরদারির কথাও বলা হয়েছে। হোটেল, লজ বা ধর্মশালায় নিয়মিত তল্লাশির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সমস্ত আধিকারিক আপাতত কমিশনের অধীন। দায়িত্বে গাফিলতি বা কোনও ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে কড়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে। নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কোনও শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না, এমনই বার্তা দিয়েছে কমিশন।

Be the first to comment