সাড়ে তিন বছর আগে শিলান্যাস হয়েছিল তার। নির্মাণকাজও শুরু হয়েছিল সময়মতোই। কিন্তু তার পরেও কাজ শেষ হয়নি সময়ে। প্রায় এক বছর ধরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ। অবশেষে অপেক্ষার অবসান। নবান্ন সূত্রের খবর, আগামী মাসের পাঁচ তারিখে অর্থাৎ কালীপুজোর আগের দিন, উদ্বোধন হবে সেটির। তার পরেই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে এই দক্ষিণেশ্বর স্কাইওয়াক।
অনেকেই বলছেন, কালীপুজোয় দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের বিপুল ভিড়ে যাতে সমস্যা না বাড়ে, সেই জন্যই এই দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যদিও দুর্গা পুজোর আগেই স্কাইওয়াক খোলার নির্দেশ ছিল মুখ্যমন্ত্রীর, কিন্তু তা সম্ভব না হলেও, অন্তত পক্ষে কালীপুজোর আগে এই স্কাইওয়াক চালু হয়ে গেলে অনেকটাই সুবিধা হবে সাধারণ মানুষের।
২০১৫ সালের মার্চ মাসে দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বরের মঞ্চে এই স্কাইওয়াক প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৬৫ কোটি টাকা বাজেটের এই স্কাইওয়াকের দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার, প্রস্থ সাড়ে দশ মিটার। বিভিন্ন দিক থেকে স্কাইওয়াকে ওঠার জন্য ১২টি চলমান সিঁড়ি, চারটি লিফ্ট ও আটটি সিঁড়ি রয়েছে। গোটা স্কাইওয়াক ঢাকা ছাউনি দিয়ে। ভিতরে ত্রিমাত্রেক আলোকসজ্জা। পুর দফতরের দাবি, এত আধুনিক মানের স্কাইওয়াক ভারতে এই প্রথম। ‘ফোরাম ইন্টারন্যাশনাল’ সংস্থার বানানো এই স্কাইওয়াকটির নিরাপত্তার শংসাপত্র দিয়ে দিয়েছে রাইটস। সামনের মাসে স্কাইওয়াক খুলে গেলে সাধারণ মানুষের তো বটেই, সেই সঙ্গে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে আসা অসংখ্য দর্শনার্থীর প্রভূত সুবিধা হবে।
দক্ষিণেশ্বর রেলস্টেশন এবং বাসস্ট্যান্ড থেকে মন্দিরে ঢোকার একমাত্র পথ সঙ্কীর্ণ রানি রাসমণি রোড। সেই রাস্তার দু’ধার জুড়ে হরেক রকমের দোকান। দখল হয়ে গিয়েছে ফুটপাথও। ফলে সরু রাস্তায় অনবরত চলাচল করে অসংখ্য যানবাহন। আর তার ভিতর দিয়েই রোজ হেঁটে মন্দিরে যান হাজার-হাজার দর্শনার্থী। যার জেরে দিনভর যানজট রোজকার সমস্যা দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের সামনে।
অনেক দিন ধরেই ওই রাস্তা সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন দক্ষিণেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েক বছর আগে কেএমডিএ-কে একটি আন্ডারপাস তৈরির নির্দেশও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ওই এলাকায় আন্ডারপাস তৈরি সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে আন্ডারপাস তৈরি সম্ভবও হয় না। তখনই সিদ্ধান্ত হয়, দক্ষিণেশ্বরে ঢোকার রাস্তায় যানজট কমাতে একটি স্কাই ওয়াক তৈরি হবে।
দু’বার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরে, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে পুজোর আগেই যাতে স্কাইওয়াক প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়, তার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। কাজের তদারকির দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগোচ্ছিল শেষ করার কাজ। দিনরাত জেগে ‘ফিনিশিং টাচ’ দিচ্ছিলেন শ্রমিকরা। ফিরহাদ হাকিম নিজে এসে কাজ তদারকিও করে যান। কিন্তু তার পরেও, পুজোর আগে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
শেষমেশ শুক্রবার ঘোষিত হল শুভ দিন। পুজোর পরে, কালীপুজোর আগের দিন অর্থাৎ নভেম্বর মাসের পাঁচ তারিখে উদ্বোধন হবে স্কাইওয়াক। ফলে কালীপুজোর বিপুল ভিড় অনেকটাই সুষ্ঠু ভাবে সামাল দেওয়া যাবে বলে মনে করছেন দক্ষিণেশ্বর কর্তৃপক্ষও। সাধারণ মানুষও খুশি আসন্ন সুরাহার কথা ভেবে।

Be the first to comment