রোজদিন ডেস্ক : বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী অন্য রাজ্যের রাজধানীতে পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থে কার্যালয় খোলার দাবি জানিয়েছেন। রাজ্যে কাজ না পেয়ে যে সব রাজ্যে এখান থেকে দলে দলে পরিযায়ী শ্রমিকরা গিয়ে কাজ করেন, মূলত সেখানকার রাজধানীতে এই ধরনের কার্যালয় খোলার প্রস্তাব দেন তিনি। এই রাজ্যের সরকার স্বীকৃত পরিচয়পত্র দেওয়া-সহ পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অধিকার, কল্যাণের জন্য এই সব কার্যালয় কাজ করবে বলে প্রস্তাব তাঁর।

অতি সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে মুর্শিদাবাদ থেকে যাওয়া ছয় পরিযায়ী শ্রমিকের গ্যাসের আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ সকালে পাঁচপীরতলা সহ অন্য গ্রামে তাঁদের বাড়ি যান প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। দুঃস্থ, শোকার্ত পরিবারগুলিকে সমবেদনা জানান। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
বেঙ্গালুরুতে তাঁদের এই অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া মাত্র কর্ণাটক সরকারের সঙ্গে অবিরত যোগাযোগ রেখেছিলেন তিনি। তাঁদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর মুর্শিদাবাদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও করেন এই ঘটনায় মর্মাহত অধীর বাবু।

আজও তিনি ভিডিও কল করে অসহায় পরিবারগুলির সঙ্গে কর্ণাটকের স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কথা বলিয়ে দেন।
পরে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে অধীর চৌধুরী জানান, এখানে কাজ না পেয়ে রুজি রোজগারের জন্য যুবকরা অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন। প্রায়শই এই রকম মর্মান্তিক ঘটনা হচ্ছে। এখনকি এই পরিবারের মহিলারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে হোম গার্ডের কাজ করবেন বলে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের সম্মানজনক সরকারি চাকরির দাবি জানান। রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকরা যাতে কোন সমস্যায় না পড়েন, এর জন্য ওই সব রাজ্যের রাজধানীতে ডেডিকেটেড কার্যালয় খুলতে সরকারের কাছে দাবি জানান।
অধীর বাবুর এই প্রস্তাব যুক্তিসঙ্গত বলেই ওয়াকেবহাল মহল মনে করেন।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বেঙ্গালুরুতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মুর্শিদাবাদের ছয় পরিযায়ী শ্রমিক জাহিদ আলি (৩২), মিনারুল শেখ (৩৫), তাজবুল শেখ (৩৫), জিয়ায়ুর শেখ( ৪০) সফিজুল শেখ ( ৩০) ও হাসান মল্লিক (৪০) অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করেও তাঁদের বাঁচাতে পারেননি । পরে অধীরবাবুর প্রচেষ্টায় তাঁদের মরদেহ এখানে এনে শেষকৃত্য করা হয়।
আজও অধীর চৌধুরী জানান, তিনি ও তাঁর দল এই অসহায় পরিবারগুলির পাশে আছেন, থাকবেনও।
রাজ্য জুড়ে যখন উৎসবের আবহ, মুর্শিদাবাদের এই পরিবারগুলিতে তখন শুধুই হাহাকার। শোকার্ত সংলগ্ন এলাকার মানুষজনও।

Be the first to comment