রোজদিন ডেস্ক : কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ফের রাজ্য জুড়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ইডির অভিযান। কলকাতা, দুর্গাপুর, আসানসোল, বর্ধমান, দিল্লি-সহ ৯টি জায়গায় তল্লাশি চলছে। ৯ জনকে চিহ্নিত করে একযোগে তাঁদের বাড়ি, অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি কর্তারা। অভিযোগ, বিদেশে টাকা পাচারে জড়িত এরা। এদিন সকালে বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে পৌঁছে যায় ইডি। দু’দিন আগেই বুদবুদ থানার ওসির দায়িত্ব পেয়েছেন মনোরঞ্জন মণ্ডল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, কয়লা পাচার মামলায় যে প্রোটেকশন মানির লেনদেন হয়েছিল তার সঙ্গে যোগ রয়েছে ওসি মনোরঞ্জনের। অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের বেআইনি টাকা পাচারে সাহায্য করার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন তিনি। এদিন তাঁর দুর্গাপুরের বাড়িতে তল্লাশির পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের ৯ জায়গায় হানা দিয়েছেন ইডি কর্তারা। কয়লা পাচার চক্রের বিরুদ্ধে চলা তদন্তকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতেই সাতসকালে এই অভিযান। কেবল বাংলায় নয়, ইডির একটি দল ইতিমধ্যেই দিল্লিরও বেশ কিছু জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে। সূত্রের খবর, গত কয়েক মাসে একাধিক অভিযান এবং বাজেয়াপ্ত হওয়া নথি থেকে এই মামলায় আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে। তাঁরা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে এই দুর্নীতিতে যুক্ত। এখনও পর্যন্ত ৯ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছেন তদন্তকারীরা। দু’মাস আগের অভিযানে যে মোবাইল ফোন, হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট-সহ আরও একাধিক ডিজিটাল নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল
সেই সূত্র ধরেই উঠে আসে ওসি মনোরঞ্জ মণ্ডলের নাম। এছাড়াও ব্যবসায়ী কিরণ খান, শেখ আখতার, প্রবীর দত্ত, অমিত বনশল, মির্জা নিজামুদ্দিন, চিন্ময় মণ্ডলের বাড়িতেও তল্লাশি চলছে। এদিন সকালে দুর্গাপুরে বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্তের বিলাসবহুল বাড়িতে ইডির টিম পৌঁছলে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, ইডি আধিকারিকরা সেখানে গেলে প্রথমে তাদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিয়ে তদন্তকারীরা দরজা খুলে ভিতরে ঢোকেন।

Be the first to comment