জাতীয় ভোটার দিবসের অনুষ্ঠানে তাল কাটল জ্ঞানেশ কুমারের মন্তব্যে, একযোগে প্রতিবাদে কংগ্রেস ও তৃণমূল

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে রবিবার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেখানেই বাংলা নিয়ে তাঁর মন্তব্যে তাল কাটল অনুষ্ঠানের। তাঁর মন্তব্যের একযোগে প্রতিবাদ করেন কংগ্রেস ও তৃণমূল প্রতিনিধিরা। এদিন ভার্চুয়াল কনফারেন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, এসআইআর নিয়ে মিথ্যে ভাষ্য তৈরি করা হচ্ছে বাংলায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কংগ্রেসের আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় নিজের বক্তব্যে ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন। তাঁকে সমর্থন জানান তৃণমূলের সুব্রত বক্সিও। এনিয়ে কিছুটা উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। এছাড়া বিএলও-দের পুরস্কৃত করা থেকে নিয়ে এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু-সহ একাধিক ইস্যুতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা।
সভায় তৃণমূলের সুব্রত বক্সির অভিযোগের জবাবে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট করে দেন, কত ভোটারের নাম বাদ যাবে এরকম কোনও কথা বলা হয়নি। সুব্রত বক্সি জানতে চান, দেড় কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে, তা কীসের ভিত্তিতে? উত্তরে মনোজ আগরওয়াল বলেন, এমন কোনও তথ্য কমিশনের তরফে কখনও বলা হয়নি। এসব কথা বলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সুব্রত বক্সির আরও বলেন, বৈধ ভোটারদের নাম থাকাটা নিশ্চিত করতে হবে। একই দাবি জানান সিপিএম নেতা কল্লোল মজুমদার। সিইও আশ্বস্ত করে জানান, নিশ্চিন্তে থাকুন। আগেও বলেছি, আবারও বলছি, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়বে না। বিজেপির তাপস রায় দাবি করেন, ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ দিতে হবে। সুব্রত বক্সি পালটা দাবি করেন, ভুয়ো ভোটারদের তালিকা দেখাতে হবে, সেই তালিকা কি বিজেপির কাছে আছে? এই নিয়ে সভা কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রবিবারের অনুষ্ঠানে এসআইআরে ভালো কাজ করা বিএলও-দের সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল। সেই মতো দূরদূরান্ত থেকে বিএলও-রা এসেছিলেন। কিন্তু ১০ জনের হাতে সম্মান তুলে দেওয়ার পর জানানো হয়, বাকিদের পুরস্কার জেলায় পৌঁছে যাবে। তাতে বিএলও-দের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা।
কংগ্রেসের আশুতোষ দাবি করেন, এসআইআর আতঙ্কে ১২৬টি প্রাণ চলে গিয়েছে। এঁদের জন্য নীরবতা পালন করা উচিত। এই নিয়ে মনোজ আগরওয়ালের মন্তব্য পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মনোজ আগরওয়াল জানান, মৃত্যু নিয়ে জেলাশাসকদের তরফে তাঁদের কাছে কোনও তথ্য নেই। তাই তাঁরা এবিষয়ে জানেন না। এতে শোরগোল বেঁধে যায়। এতজনের মৃত্যুর তথ্যই নেই কমিশনের কাছে, এনিয়ে তৃণমূলের প্রতিনিধিরা সরব হন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*