আরও বিপাকে সাধারণ মানুষ৷ আজ, সোমবার থেকেই বেশ কিছু নিত্যপণ্যের উপর জিএসটির বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার। করের বোঝায় নাজেহাল দেশবাসী৷
একাধিক ক্ষেত্রে জিএসটির হার বাড়ছে৷ এতদিন যে সব পণ্য করমুক্ত ছিল, তাদের উপরও এবার কর চাপানো হয়েছে। ফলে বেশ কিছু জিনিস কিনতে টান পড়তে পারে পকেটে৷ খরচ হবে বেশি টাকা। ১৮ জুলাই থেকে ৫ শতাংশ হারে কর ধার্য করা হল চাল, আটা, বার্লি, ওটস, প্যাকেট করা মুড়ি, চিঁড়ে, মুড়কি, খই, পনির, মধু, গুড়, চালের গুঁড়োর মতো খাদ্যদ্রব্য গুলিতে। এমনকি হাসপাতালের বেড ও হোটেলেও দৈনিক ভাড়ার ওপর ১২ শতাংশ কর দিতে হবে (আইসিইউ ছাড়া) বলে জানিয়েছে কেন্দ্র৷ প্রবল ধাক্কা লেগেছে পর্যটন শিল্পেও। হাজার টাকার নীচের ভাড়ার হোটেলে থাকলে এখন মেটাতে হবে ১২ শতাংশ জিএসটি।এখন থেকে হাসপাতালের বেড ভাড়া ৫ হাজার টাকা বা তার উপরে হলে, বসেছে ১২ শতাংশ জিএসটি।
গত জুন মাসে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে নতুন জিএসটির হার গৃহীত হয়েছে। প্যাকেটবন্দি সব পণ্য কিনতে হলে আজ থেকে ৫ শতাংশ হারে জিএসটি দিতে হবে৷ একদিকে রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েই চলেছে৷আর অন্যদিকে, স্বস্তি নেই পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিনের দামেও । তার উপরে মোদি সরকারের নতুন এই জিএসটির কোপে দিশাহারা জনতা৷
কোন কোন জিনিসের দাম বাড়বে?
১। লিগ্যাল মেট্রোলজি অ্যাক্টের অধীনে আগে থেকে প্যাকেট ও লেবেলযুক্ত খুচরা খাদ্যদ্রব্য গুলি যেমন দই, লস্যি এবং মাখন, চাল, আটা, বার্লি, ওটস, প্যাকেট করা মুড়ি, চিঁড়ে, মুড়কি, খই, পনির, মধু, গুড়, চালের গুঁড়ো, দুধের উপর ১৮ জুলাই থেকে ৫ শতাংশ হারে GST আরোপ হবে।
২।যদি হাসপাতালের ঘরের ভাড়া (আইসিইউ ব্যতীত) রোগীর জন্য প্রতিদিন ৫ হাজার টাকার বেশি হয়, তাহলে ওই রুমের জন্য ৫ শতাংশ অতিরিক্ত জিএসটি ধার্য করা হবে।
৩। ব্লেডযুক্ত ছুরি, কাগজের ছুরি, পেন্সিল শার্পনার, চামচ, কাঁটা, কেক সার্ভার ইত্যাদিতে জিএসটি ১২ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৪। চেক ইস্যু করার জন্য ব্যাঙ্কের চার্জের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটিআরোপ করা হবে।
৫। মানচিত্র এবং চার্টের উপর ১৮ তারিখ থেকে ১২ শতাংশ হারে GST বসবে।
৬। এলইডি লাইট, ফিক্সচার, এলইডি ল্যাম্পের দাম বাড়তে পারে। কারণ এক্ষেত্রেও জিএসটি কাঠামো ১২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৮ শতাংশে করার সুপারিশ করা হয়েছে।
কোন কোন জিনিস সস্তা হবে?
যদিও ব্যক্তিগত সংস্থা/বিক্রেতাদের দ্বারা আমদানি করা প্রতিরক্ষা আইটেমগুলির উপর প্রতিরক্ষা বাহিনীকে জিএসটির থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। রোপওয়ের মাধ্যমে পণ্য ও যাত্রীদের পরিবহন সস্তা করার জন্য জিএসটির হার ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে৷

Be the first to comment