রোজদিন ডেস্ক : ডাবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে দূষিত জল পান করে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হাজারেরও বেশি। মৃতদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন শুনেই মেজাজ হারান মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়। প্রশ্ন করা সাংবাদিককে কুকথা বলেন তিনি। সেই সাংবাদিক দমে না গিয়ে পাল্টা বিজেপি নেতাকে অভিজ্ঞ মন্ত্রী হিসাবে শব্দচয়ন ও কথায় ভদ্রতার পাঠ দেন। সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি বিজেপির এই মানসিকতার তীব্র নিন্দা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের বক্তব্য, মানুষের প্রাণ গেলেও বিজেপির কাছে সবই নাটক। এই দম্ভের জবাব মানুষই দেবে। বিজেপির বিনাশ অনিবার্য। ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে সাংবাদিকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তৃণমূল সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ভারতে আপনার মতো আরও বেশি মানুষের প্রয়োজন, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সাহসী ও আন্তরিক। আগের চেয়েও এখন বেশি! সাংবাদিকদের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের খারাপ ব্যবহার, কুকথা ও কুরুচিকর আক্রমণের নজির অতীতেও বহু রয়েছে। কিন্তু ইন্দোরে বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় সবকিছু ছাপিয়ে গেলেন। ক্যামেরার সামনে খারাপ ভাষায় সাংবাদিককে আক্রমণ করেন তিনি। কারণ মৃতদের ক্ষতিপূরণ কিংবা অসুস্থদের চিকিৎসার খরচ নিয়ে প্রশ্ন করাটা সাংবাদিকের ‘উচিত’ হয়নি। যা শুনেই বিজেপির মন্ত্রী বলেন, এসব ফোকটের প্রশ্ন করবেন না! তারপরই শুরু বচসা। ওই সাংবাদিকও ভয় না পেয়ে বলেন, তিনি কোনও ভিত্তিহীন প্রশ্ন করছেন না। ঘটনাস্থল ঘুরে এসে প্রশ্ন করছেন। তাতে কৈলাস আরও রেগে গিয়ে বলেন, তাতে ‘ঘণ্টা’ হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তীব্র প্রতিবাদে গর্জে উঠে মন্ত্রীকে পাল্টা বলেন, আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না কৈলাসজি! একজন অভিজ্ঞ মন্ত্রী হিসাবে আপনার শব্দ ব্যবহারে আরও সতর্ক হওয়া উচিত! আপনার মুখে এসব কথা শোভা পায় না। ‘ঘণ্টা’ কী ধরনের শব্দ? সেইসময় মন্ত্রীর সাঙ্গোপাঙ্গরা ক্যামেরা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। বেরিয়ে যেতে বলেন সাংবাদিককে। রুখে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক বলেন, আমি তো চলে যাবই। কিন্তু ওঁকে ওঁর মুখের ভাষা ঠিক করতে বলুন! পরে চাপে পড়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

Be the first to comment