রাতে প্রেমিকার ফোন, সকালে প্রেমিকের দেহ উদ্ধার সীমান্ত গেদেতে চাঞ্চল্য, প্রেমিকা-সহ তিনজন গ্রেপ্তার

Spread the love

রমিত সরকার, নদীয়া : রাতে প্রেমিকার ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন কলেজ পড়ুয়া যুবক। ভেবেছিলেন একটু দেখা হবে, তারপর ফিরে আসবেন ঘরে। কিন্তু আর ফেরা হল না। রবিবার সকালে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কৃষ্ণগঞ্জ থানার অন্তর্গত গেদের হালদারপাড়া এলাকায় ঝোপের মধ্যে থেকে উদ্ধার হল ওই যুবকের নিথর দেহ। ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও চাঞ্চল্য।

মৃত যুবকের নাম সৌরভ হালদার (১৯)। তিনি মাজদিয়া কলেজের ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাড়ি গেদে হালদারপাড়াতেই। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে সৌরভের মোবাইলে ফোন করেন তাঁর প্রেমিকা, যিনি মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। ফোন পেয়ে সৌরভ বাড়ির লোকজনকে না জানিয়েই প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে বেরিয়ে যান। অভিযোগ, প্রেমিকার বাড়িতেই তাঁকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল।

রাত পেরিয়ে গেলেও সৌরভ বাড়ি না ফেরায় উদ্বেগ বাড়ে পরিবারের সদস্যদের। আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। রবিবার বেলা নাগাদ প্রেমিকার বাড়ির পাশেই একটি ঝোপের মধ্যে যুবকের দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা। সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্ণগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে প্রথমে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সৌরভকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, সৌরভকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রেমিকা ও তাঁর পরিবারের আরও তিনজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রবিবার বিকেলেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী প্রেমিকা-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌরভ ও ওই ছাত্রীর মধ্যে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী গেদে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তদন্ত চলছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*