ইদানীং প্রায়ই বিধানসভায় সক্কাল সক্কাল পৌঁছে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর পড়া ধরার মতোই খোঁজ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, কারা এসেছেন, কারা আসেননি। প্রশ্নোত্তর পর্বে কোনও মন্ত্রী জবাব প্রস্তুত করে না এলে মৃদু বকুনিও খেয়েছেন তাঁর কাছে। যেমন মঙ্গলবার বকুনি খেয়েছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়, কিংবা বিষ্যুদবারে মৎস্য মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ।
দিদি এত তাড়াতাড়ি বিধানসভায় পৌঁছে যাবেন, ভাবতেও পারেননি অনেক মন্ত্রীই। এমনকী বিধানসভায় সরকারের যাবতীয় কৌশল ও কক্ষ সমন্বয়ের মূল দায়িত্ব যাঁর উপরে সেই পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও বিধানসভায় এসে পৌঁছন দিদির অনেক পরে। এমনও হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় পৌঁছে গিয়েছে শুনে নাওয়া খাওয়া ভুলে তড়িঘড়ি দৌড় লাগিয়েছেন বেশ কয়েক জন মন্ত্রী বিধায়ক। পরে লবিতে নিজেদের মধ্যে আড্ডায় অকপটে তা স্বীকারও করে নিয়েছেন কেউ কেউ।
তবে দিদি তো দিদিই। বকুনিও যেমন দেন, তেমনই স্নেহ পরবশ হয়ে তাঁদের সঙ্গে মজাও করেন। বৃহস্পতিবারই যেমন সভার ফাঁকে বিধানসভায় নিজের ঘরে বসে বিধায়কদের সঙ্গে চা খেতে খেতে গল্প করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘরে তখন মন্ত্রী, বিধায়ক মিলিয়ে প্রায় জনা তিরিশ নেতা রয়েছেন। এক সময়ে দিদি বলেন, “এই তোমরা সবাই সাদা ম্যাড়ম্যাড়ে পাজামা-পাঞ্জাবি পরে রোজ বিধানসভায় আসো কেন? একটু রঙিন কিছুও তো মাঝে মধ্যে পরতে পারো! সব সময় পাজামা পাঞ্জাবিই বা কেন! প্যান্ট-হাফ শার্টও তো পরলে কত ভাল লাগে! এই দ্যাখো পার্থ পরেছে! কী ভালো লাগছে! ইন্দ্রনীল পরেছে!”
দিদির এই কথার মাঝেই এক বিধায়ক মুখ টিপে বলেন, “আসলে, বেশি রঙচঙে পরতে ইদানীং ভয় লাগে দিদি! বাড়িতে বউ সন্দেহের চোখে তাকায়! চার পাশে যা চলছে, তার পর…।” সন্দেহ নেই, তিনি শোভন-বৈশাখীর দিকেই ইঙ্গিত করতে চেয়েছিলেন। তাঁর মুখের কথা শেষ হওয়ার আগেই সবাই হেসে ওঠেন। হাসি চাপতে পারেননি মমতাও!

Be the first to comment