টিএমসি-র পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে : হুঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : রাজ্যের শাসক টিএমসি-র পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। ৪ মে-র পর বেছে বেছে এর সব হিসাব মেটানো হবে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ হুঙ্কার দিয়েছেন। অতি সম্প্রতি মালদায় বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের হেনস্থার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যাঁরা বিচার বিভাগের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তারা সাধারণ মানুষের কি নিরাপত্তা দেবে!!
নির্বাচনী নির্ঘন্ট ঘোষণার পর আজ কোচবিহারে তাঁর প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে আগাগোড়া আক্রমণাত্মক ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজ্যের শাসক টিএমসি-কে তীব্র আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগে তাঁর ব্রিগেডের সভা তেই ঘাবড়ে গেছে টিএমসি। এরপর বাংলা থেকে তারা ভয়ে পালাবে। এই সরকারের কাটমানি, করাপশনে মানুষ বিরক্ত। এবার রাজ্যে একটাই আওয়াজ, পালটানো দরকার।
রাজ্যে তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলছে বলে সুর চড়ান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এবার নির্ভয়ে মানুষ ভোট দেবেন। এবারের নির্বাচন পরিবর্তনের জন্য। অনুপ্রবেশ বন্ধ চায় না বলেই টিএমসি এসআইআরের বিরোধিতা করেছে বলে তোপ দাগেন।
কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানের ভিড়ে ঠাসা সমাবেশে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এবার মানুষ নিজের ভোট নিজে দেবেন। এই নির্মমতার সরকারের মহা জঙ্গলরাজ থেকে রাজ্য এবার মুক্ত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

নির্বাচন কমিশনের ওপর তাঁর পুরো আস্থা আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার মানুষ এখানে নির্ভয়ে ভোট দেবেন।
মালদার মোথাবাড়ির ঘটনায় গোটা দেশ শিহরিত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি টিএমসি-র মহা জঙ্গলরাজের উদাহরণ।
এই সরকারের আমলে রাজ্যের সীমান্তের ভৌগোলিক ছবি পালটে গেছে বলে তোপ দাগেন তিনি। বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের সব নিরাপত্তা দেয় টিএমসি, তাদের নিয়ে সিন্ডিকেট করে। কেন্দ্র সব অনুপ্রবেশকারীদের বার করে দিতে চায়। শুধু তাঁরাই না, সারা পৃথিবীতেই বিভিন্ন দেশ অনুপ্রবেশকারীদের বার করে দিচ্ছে।
কোচবিহারের সভায় হিন্দু তাস ও খেলেন প্রধানমন্ত্রী। টিএমসি-কে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বলেন, ওদের ঘোষণাপত্র-কে ইন্তেহার বলা হয়েছে কেন?
১৯০৫ সালে লাল ইন্তেহার জারি হয়। যা হিন্দুদের সংহার করে। নাম না করে সংখ্যালঘুদের নিশানা করে তিনি বলেন, বিশেষ মতাদর্শের মানুষ রা এখানে হিন্দুদের থাকা মুস্কিল করে দেবে।
রাজ্যের পরিচয় বদলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে এর বিদায় হবে। টিএমসি উত্তরবঙ্গ সহ গোটা রাজ্যকেই বরবাদ করেছে বলে তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী। কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুরের মানূষের দাবি মেডিকেল কলেজের।
হাসিমারা, মালদা, বালুরঘাট বিমানবন্দরের উন্নয়ন আটকে আছে। আগামী ৪ মে রাজ্যে ডবল ইঞ্জিনের সরকার তৈরি হবে, কোচবিহার, উত্তর বঙ্গের মানুষের সঙ্গে যা অন্যায় হয়েছে, তার অন্ত হবে, এটি মোদির গ্যারান্টি বলে তিনি ঘোষণা করেন। উপস্থিত আমজনতা তাঁর এই সব বক্তব্যে প্রবল সমর্থন জানান। সব ক্ষেত্রে এই
রাজ্যের পুর্ব গরিমা, মহিমার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় সব দিকে এগিয়ে থাকা এই রাজ্যের গ্রহণ লেগেছে। প্রথমে কংগ্রেস, এরপর বামেরা, এখন টিএমসি-র গ্রহণে রাজ্যের বিকাশ থমকে আছে।

রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি আরও বলেন, এখানে সরকারি চাকরিতে যে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে, সেখানে টিএমসি মন্ত্রী, বিধায়করাও যুক্ত। রাজ্যে নতুন সরকার এলে আইনের শাসন হবে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন নিয়ে আজ কোচবিহারে সাধারণ মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত। অনেকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি এঁকে এনেছিলেন, ভাষণের শুরুতেই দৃশ্যত খুশি প্রধানমন্ত্রী এসপিজি-কে এই সব ছবি সংগ্রহ করে আনতে বলেন। চল্লিশ মিনিটের দীর্ঘ ভাষণে মাঝে মাঝেই বাংলা বলেন।
তাঁকে সুস্বাগতম জানিয়ে ঘন ঘন ধ্বনি দেওয়া হয়। বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সহ জেলার বিজেপি প্রার্থীরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। শমীক ভট্টাচার্য প্রধানমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
হাসিমারা থেকে রাসমেলা ময়দান আসার পথে তাঁর আগমন নিয়ে জনতার উৎসাহ, উদ্দীপনা দেখে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী। আসার পথেই সমাজ মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে তিনি জানিয়ে দেন, এই উৎসাহ, উদ্দীপনাই জানান দিচ্ছে, রাজ্যে এবার টিএমসি-র বিদায়। তাঁদের নেতৃত্বে নতুন সরকার আসছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*