রোজদিন ডেস্ক : রবিবার রায়না বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মন্দিরা দলুইকে এবার ৫০ হাজার ভোটে জেতাতে হবে। রবিবার রায়নায় এসে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে কর্মীদের এই টার্গেট বেধে দিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। এদিন দুপুরে রায়নার শ্যামসুন্দর মাঠের সভায় অভিষেক এই লড়াইয়ের স্লোগানও ঠিক করে দিয়ে গেলেন। অভিষেক বলেন, ২৩ ও ২৯ তারিখে বলহরি হরি বোল, বহিরাগতদের খাটে তোল। এরপরই একের পর এক বিজেপির বিরদ্ধে আক্রমণ শানান তিনি। একদা এই বামদূর্গে সিপিএম-কে হারিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভা দখল করেছিল। অভিষেক বলেন, গোবিন্দভোগ চাল রপ্তানিতে বাধা দিচ্ছে বিজেপি সরকার। রাজ্যে ৫০টি হিমঘর তৈরি হবে। রায়নাতে একটা বড় হিমঘর তৈরি হবে। প্রতিনিয়ত দাম বাড়ছে জিনিসপত্রের। মশলাপাতি থেকে শুরু করে জ্বালানি ও গ্যাসের ক্রমাগত দাম বাড়ছে। এর বিরুদ্ধে যুবদের আরও বেশি করে লড়তে হবে। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে অভিষেক বলেন, আবাস যোজনার বাড়ির তৈরির টাকা, ১০০ দিনের টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার প্রমাণ করতে পারলে, রাজনীতি ছেড়ে দেব। বিজেপি-শাসিত রাজ্যের কোনও একটিতে লক্ষ্মীর ভান্ডার দেন প্রমাণ করুন। তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে টাকা দিয়ে বিজেপি ভোট করাতে চাইছে। আপনাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছে। জবাব লাইনেই দিতে হবে। ওদের ভোট দেওয়া মানে সিপিএমের হার্মাদদের সুবিধা করে দেওয়া। ধর্মের ভিত্তিতে নয় কর্মের ভিত্তিতে লড়াই করতে হবে বিজেপিকে।
এই দক্ষিণ দামোদর এলাকা তথা রায়না, খণ্ডঘোষের গোবিন্দভোগ চাল পৃথিবী বিখ্যাত। ইতিমধ্যেই এই চাল জিআই তকমাও পেয়েছে।এদিন অভিষেক বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই গোবিন্দভোগ চাল রফতানিতে নানা বাধা দিচ্ছে। অভিষেক বলেন, আলু, সবজি চাষিদের জন্য রায়নায় একটা কোল্ড স্টোর হবে। এখানে দমকল কেন্দ্রও হবে। বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, চারশো টাকার রান্নার গ্যাস হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, মোদি নিচ্ছে, দিদি দিচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটে বিজেপির হাত, পা, মাথা ভাঙবে আর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় বিজেপির হরিবোল হবে। অভিষেক বলেন, তৃণমূল সরকার থাকলে আজীবন লক্ষ্মীর ভান্ডার, পানীয় জল, স্বাস্থ্য শিবির, প্রবীণদের জন্য বার্ধক্য ভাতা, আবাসের টাকা সব থাকবে। রায়না বিধানসভার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৩,৯০০ জনকে রায়নায় বাড়ি দেওয়া হয়েছে। ৯১,০০০ জনকে লক্ষ্মীর ভান্ডার, ৬৬,০০০ কৃষককে কৃষি সুবিধা, ১৯,০০০ জনকে যুবসাথী, রাস্তাশ্রী, পথশ্রী ৩ ও ৪ প্রকল্পে মোট ১৩১টি ২০৯ কিমি রাস্তা করা হয়েছে। এই খাতে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ১,১০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দল সবার ওপর নজর রাখছে। বিজেপির কাছ থেকে টাকা নিয়ে দলকে দুর্বল করতে চাইছে কয়েকজন। ৪ মে-র পর তাঁদের সঙ্গে দেখা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Be the first to comment