রোজদিন ডেস্ক : ভোটমুখি রাজ্যে আগামী ১৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিঙ্গুরে জনসভা করবেন।
যে সিঙ্গুরের আন্দোলন রাজ্য ও রাজ্যের শাসক দলের ক্ষমতা দখলের অন্যতম মাইল ফলক বললেও অত্যুক্তি হয় না।
সিঙ্গুরে কৃষকদের জমি জোর করে সরকার নিয়ে টাটাদের কারখানার জন্য দিচ্ছে, এর বিরুদ্ধে রুখে উঠে লাগাতার আন্দোলন করে দেশব্যাপী তোলপাড় তুলেছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। এই ইস্যুতে পাশে পেয়েছিলেন সব বিরোধী দলকে। এসেছিলেন রাজনাথ সিং-সহ বিজেপির বহু নেতাও। সম্মিলিত আন্দোলনের জেরে পিছু হঠেছিলেন টাটা সংস্থার কর্ণধার প্রয়াত রতন টাটা। সিঙ্গুর-সহ রাজ্যে শিল্প আনার বার্তা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা ব্যানার্জি ও তাঁর দল।।ক্ষমতায় এসেও সিঙ্গুর-সহ রাজ্যে কোন ভারী শিল্প আনতে পারেনি পরিবর্তনের সরকার। বরং সিঙ্গুর থেকে টাটা-কে বিদায় দিয়ে শিল্প বিরোধী তকমা পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দল।
এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনার কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।।
গুজরাটকে শিল্প সমৃদ্ধ করার রূপকার প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরের জনসভায় কি বার্তা দেবেন সব মহল এখন সেদিকে তাকিয়ে।
সিঙ্গুরে টাটার প্রস্তাবিত গাড়ি কারখানা চলে গেছিল গুজরাটে। তখন সেখানে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি।।
দীর্ঘ ১৮ বছর পর ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী র সভা ঘিরে তাই রাজনৈতিক মহলেও চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।
বুধবার ৭ জানুয়ারি ছিল শাসক দলের নেতাই দিবস। বামফ্রন্ট আমলের শেষের দিকে নেতাই-এ গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন। অভিযুক্ত ছিলসিপিএম। নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুরের পাশে এই দিনটিও শাসক দলের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এই দিনেই রাজ্য বিজেপির ঘোষিত সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।
শিল্প বন্ধু হিসাবে দাবি করা প্রধানমন্ত্রী শিল্প খরায় জেরবার এই রাজ্যে নতুন কোন আশার বাণী শোনাবেন কিনা তার প্রতীক্ষায় এখন সব মহলই।

Be the first to comment