তাহেরপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরে তুঙ্গে প্রস্তুতি, লক্ষ্য দেড় লক্ষ মানুষের সমাগম

Spread the love

রমিত সরকার, নদীয়া : তাহেরপুরে আগামীকাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা। সেই সভাকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে জানানো হয়েছে, এই সভার মাধ্যমে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি সাংগঠনিক বার্তাও দেওয়া হবে। শাসকদলের লক্ষ্য, প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটানো।

ইতিমধ্যেই সভাস্থল পরিদর্শন করেছেন দক্ষিণ নদিয়া জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব। মঞ্চ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, শব্দব্যবস্থা, পানীয় জল ও শৌচালয়-সহ যাবতীয় পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্মী-সমর্থকদের সভাস্থলে আনতে প্রায় ১,২০০টি বাস ভাড়া করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ছোট ম্যাটাডর, অটো ও টোটো মিলিয়ে মোট যানবাহনের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়াবে।

মূলত দক্ষিণ নদিয়া জেলার বিভিন্ন ব্লক ও পৌর এলাকা থেকেই সবচেয়ে বেশি কর্মী-সমর্থক আসবেন বলে তৃণমূল সূত্রে দাবি। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকার বহু মানুষও সভায় যোগ দেবেন। দক্ষিণ নদিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে রেল যোগাযোগ থাকায় বহু কর্মী-সমর্থক ট্রেনপথে তাহেরপুরে পৌঁছবেন। তাঁদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে স্টেশন থেকে সভাস্থল পর্যন্ত বিশেষ টোটো ও অটো পরিষেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সভার দিন যানজট এড়াতে ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রবেশ ও প্রস্থান পথে স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, বিশৃঙ্খলা এড়াতে কর্মী-সমর্থকদের নির্দিষ্ট পথে সভাস্থলে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিকভাবে এই সভাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস। দক্ষিণ নদিয়ায় বিজেপির প্রভাবশালী এলাকাগুলিতে সংগঠন আরও মজবুত করতেই এই সভাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, প্রতিটি বুথ থেকে ৬০ থেকে ৭০ জন কর্মী ও সমর্থককে সভায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষ করে মহিলা ভোটার ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতির উপর বাড়তি নজর রাখা হয়েছে। তাঁদের সভায় আনতে বুথস্তরে আলাদা পরিকল্পনা করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

সব মিলিয়ে, তাহেরপুরের এই সভাকে ঘিরে দক্ষিণ নদিয়ার রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে কী বার্তা উঠে আসে, তা ঘিরেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

চিত্র: কাজল বসাক

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*