রোজদিন ডেস্ক : আই প্যাক কর্ণধারের বাড়ি, অফিসে ইডি-র হানা, তার বিরুদ্ধে অগ্নিমূর্তি হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় উঠেছে। শাসক দল ইডি-র বিরুদ্ধে আজ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ভূমিকার বিরুদ্ধে রাজ্যের বিরোধী নেতারা সরব হয়েছেন। যে ভাবে আই প্যাক কর্ণধারের বাড়ি ইডি অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ বাহিনী নিয়ে যান, বহু নথিপত্র, ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক ইত্যাদি নিয়ে আসেন, তা অসাংবিধানিক বলে একযোগে নিন্দা করেছেন তাঁরা। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বলেন, রাজ্যে সব রকম দুর্নীতিতে শাসক দল যে জড়িত, আজ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এতে সিলমোহর দিলেন। তিনি ইডি-র তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর ওখানে যাওয়া, নথিপত্র ইত্যাদি নিয়ে আসাকে তীব্র নিন্দা করেন।
প্রাক্তন সাংসদ, বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষে বিঁধে বলেন, আই প্যাক নিয়ে ওঁর এত মাথা ব্যথা কেন? রাজ্যের আর কোথাও ইডি অভিযান হলে তো উনি যান না!! আর জি করের মর্মান্তিক, নৃশংস ঘটনা ইত্যাদি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কোন মাথা ব্যথা নেই, আই প্যাকের বুদ্ধিতেই দল চলে, সব জায়গায় তারাই সব ঠিক করে, তাদের নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর যত ম্যাথা ব্যথা বলে অধীর চৌধুরী মন্তব্য করেন।
বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ দেগে বলেন, উনি তদন্তের কাজে বাধা দিয়েছেন, এর জন্য ওঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাবে বাধাদান রীতিমত অসাংবিধানিক বলে জানান তিনি।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, সরকারি কাজে বাধা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বেআইনি কাজ করেছেন।
এই কাজে তাঁর সঙ্গ দেওয়া রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার সি পি প্রমুখের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি জানান।
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী পৃথক ভাবে কটাক্ষ করে বলেন, প্রতিবার ই নির্বাচনের আগে ইডি, সিবিআই তৎপর হয়, এবারও তাই হল কি? দিদি-মোদির এটি ফস্টাফাটি খেলা কিনা তিনি প্রশ্ন তোলেন। বলেন আই প্যাক তো কোন রাজনৈতিক দলের কার্যালয় না, বেসরকারি সংস্থা, সেখানে ইডির অভিযানে মুখ্যমন্ত্রী কেন গেলেন? তবে কি ওখানে কারও প্রাণভোমরা লুকানো ছিল? তা কি দলের না মুখ্যমন্ত্রীর? বলে সুজন চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন।

Be the first to comment