‘নাই নাই ভয় হবেই হবে জয়’, বর্তমান পরিস্থিতিতে কবিগুরু কে উদ্ধৃত করে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে গোটা দেশ এক হয়েছে। ভারতের বীর সৈন্যরা পাকিস্তানের সংঘাতের বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাত চালিয়ে যাচ্ছে দেশ রক্ষায়। অন্যদিকে আজ ২৫ শে বৈশাখ বাংলায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিবসে দেশ, মানুষ, সবার ভালো থাকার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


আজ শুক্রবার কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের ১৬৪ তম জন্মদিন উপলক্ষে এদিন রবীন্দ্রসদন সংলগ্ন ক্যাথিড্রাল রোডে রাজ্যের তরফে কবি প্রণামের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে কবিগুরুকে সম্মান জানানোর পর তিনি বলেন, “যারা সেনা জওয়ান লড়াই করছে, মাতৃভূমি রক্ষা করছে, তাদের শ্রদ্ধা জানাই। সবাই ভালো থাক, দেশ ভালো থাক, মানুষ ভালো থাক।” মঞ্চে কবি গুরুর কবিতার কয়েকটি লাইনও উদ্ধৃত করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের থেকে আমারা শিখেছি, ‘নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়’।” মমতা আরও বলেন, “আমাদের সকাল, আমাদের বিকেল, সন্ধ্যা, রাতে, এমনকী দুঃখ, আনন্দে সব কিছুতেই কবিগুরুর থেকে শিক্ষা পাই।” সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “শুধু এই দিনগুলিতে আমরা একটু বেশি রবীন্দ্রচর্চা করি। যা স্বাভাবিক। কিন্তু অন্যদিন গুলিতে এই চর্চার কদর কমিয়ে দিয়েছি।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রী আর্জি জানান “প্রতিটি রাজ্যের কিছু সংস্কৃতি, ভাষা আছে। নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভাষা সব নিয়ে চলা উচিত। একদিন নয়, বাকিদিনগুলিতেও যেন আপন করি।”
এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে আক্ষেপের সুরে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের মধ্যে রবীন্দ্র চর্চা তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। আমার খারাপ লাগে আমরা এই একটি দিনেই শুধু রবীন্দ্রচর্চা বেশি করে করি। অন্য দিনগুলোতে চর্চা করা কমিয়ে দিয়েছি। তিনি কবির ভাষায় বলেন, নাই নাই ভয় হবেই হবে জয়। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, আমি ভয় করব না ভয় করবনা, দু বেলা মরার আগে মরবো না ভাই মরবো না। এছাড়াও তিনি বলেন, বাঁধ ভেঙে দাও বাঁধ ভেঙে দাও, ভঙ্গো। হে মোর চিত্ত পুণ্য তীর্থে জাগোরে ধীরে এই ভারতের মহামানবের সাগরো তীরে।
এরপর একই সঙ্গে রবি ঠাকুরের গান ‘নিশিদিন ভরসা রাখিস হবেই হবে’, মনে করিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সেনাবাহিনীর জওয়ানরা যারা মাতৃভূমি রক্ষা করতে আমাদের জন্য লড়াই করছেন, তাদের সকলের পক্ষ থেকে কবিগুরুর জন্মদিবসে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। সবাই ভাল থাক, দেশ ভাল থাক, মানুষ ভাল থাক।”
এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজ্যের মন্ত্রী তথা সঙ্গীত শিল্পী ইন্দ্রনীল সেন মুখ্যমন্ত্রীকে গান গাইতে অনুরোধ করেন। প্রথমে আপত্তি করলেও পরে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে গলা মিলিয়ে মমতা গেয়ে ওঠেন, ‘দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার গানের ওপারে, আমার সুরগুলি পায় চরণ আমি পাইনে তোমারে।’ এরপর রূপঙ্কর বাগচি, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, নচিকেতা চক্রবর্তী, স্বাগতা লক্ষ্মী দাশগুপ্ত, ইমন চক্রবর্তী, পরপর তাদের সংগীতের সুরমূর্ছনায় মুগ্ধ করে দেন সকলকে। পাশাপাশি এদিন নৃত্য পরিবেশনায় ডোনা গাঙ্গুলীর দীক্ষা মঞ্জরি গ্রুপ তাদের সুনাম বজায় রাখে। শিবাজী চট্টোপাধ্যায়, অরুন্ধতী হোম চৌধুরী, সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায় , ঐতিহ্য রায়, তাঁদের সংগীত পরিবেশনায় সকলকে মুগ্ধ করে তোলেন। রাজ্যের মন্ত্রী তথা সঙ্গীত শিল্পী বাবুল সুপ্রিয় ও ইন্দ্রনীল সেন তাঁদের কন্ঠে রবীন্দ্র সঙ্গীত শ্রোতাদের মুগ্ধ করে তোলেন। এছাড়া মনোময় ভট্টাচার্য, রাঘব চট্টোপাধ্যায়,দেবারতি সোম, শমীক পাল, তৃষা পাড়ুই, শান্তনু রায়চৌধুরী, অরিত্র দাশগুপ্ত, মনীষা মুরলী নায়ার এরাও সুন্দর সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন রিনি বিশ্বাস পরবর্তীতে অংশুমান চক্রবর্তী।
এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী, শিল্পী, বিনোদন জগতের নক্ষত্ররা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, কলকাতার নগরপাল-সহ একাধিক আধিকারিকরা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*