রোজদিন ডেস্ক :
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি ও গতকাল তরুণ-তরুণীদের ওপর পুলিশের দমনপীড়নের প্রতিবাদে আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে তুমুল বিক্ষোভে উত্তাল হল দিল্লি। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে সহ একাধিক নেতা সেখানে ধর্ণায় বসেন। ছিলেন কেরলম, কর্ণাটকের দুই মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন, ডি শিবকুমার, সমাজবাদী নেতা অখিলেশ যাদব সহ আর ও অনেকে৷
এর আগে সমাজ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী তাঁদের এই ধর্ণায় যোগ দিতে সব দেশপ্রেমিক ভারতীয়কে আহবান জানান। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে থাকা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কিছু দূরে এই ধর্ণায় মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পক্ষে এই ধর্ণা তোলার অনুরোধ জানানো হলেও তাঁরা মানেননি। ছিলেন বহু সিজেপি নেতা, সমর্থকরা। ক্রমে ভিড়ের বহর বাড়তে থাকায় পুলিশ জোর করে টেনে হিঁচড়ে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব প্রমুখকে বাসে তুলে নিয়ে চলে যায়।
কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেস এর প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার আজ রাতে রাজভবনের সামনে দলীয় কর্মীদের মোমবাতি মিছিলে সামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ একাধিক অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত মাস থেকে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে সহ বহু মানুষ আন্দোলন করছেন। ২৮ জুন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনের সমর্থনে অনশন শুরু করায় তা অন্য মাত্রা নেয়। যদিও কেন্দ্রর কোন হেলদোল দেখা যায়নি। ক্রমে কংগ্রেস, সিপিএম, একাধিক সংগঠন, বলিঊডের একাধিক তারকা এতে সংহতি জানালেও নীরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ রাহুল গান্ধী সমাজ মাধ্যমে বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয়র ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মনে করেন যে তিনি কোনও জবাব না দিয়েই, কোন পরিণতির মুখোমুখি না হয়েই পার পেয়ে যাবেন,পারবেন না, এবার একেবারেই পাবেন না।
আজ তাঁদের এই ধর্ণা তোলার আর্জি নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ সেখানে যান৷ এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন কে নিয়ে আবারও ধর্ণাস্থলে গিয়ে একই আর্জি জানান। কিন্তু রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীরা নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিলেন। এই সব নিয়ে ক্রমেই উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে , রাহুল গান্ধীরা রাতভর অবস্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শেষে পুলিশ জোর করে টেনে হিঁচড়ে তাঁদের তুলে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি এখনও থমথমে।

Be the first to comment