রোজদিন ডেস্ক : কেরালার কোল্লামে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (সাই) হোস্টেলে দুই নাবালিকা খেলোয়াড়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। এই রহস্যজনক মর্মান্তিক ঘটনার কারণ খতিয়ে দেঝতে তদন্ত করছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, কোঝিকোড় ও তিরুবন্তপুরমের দুই নাবালিকা আজ ভোরে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর ও অনুশীলনে আসেননি। এতে সন্দেহ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাঁদের খোঁজ খবর করেন। তাঁদের বারবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না মেলায় উদ্বিগ্ন হোস্টেল কর্তৃপক্ষ ঘরের দরজা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। দরজা ভেঙে দুই খেলোয়াড়ের ঝুলন্ত দেহ দেখে আঁতকে ওঠেন তাঁরা। ১৫ ও ১৭ বছর বয়েসি দুই খেলোয়াড় আলাদা ঘরে থাকলেও গতকাল তাঁরা এক সঙ্গে ছিলেন বলে জানা যায়। ১৭ বছরের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী কিশোরী অ্যাথলেটিকস এর প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন, ১৫ বছরের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন কবাডি খেলোয়াড়। তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন, নাকি নেপথ্যে অন্য কিছু, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। ঘর থেকে কোনও সুইসাইড নোটও মেলেনি বলে জানা যায়। দুজনের দেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে।
এই ঘটনায় সাই হোস্টেলে শোকের ছায়া নেমেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা দশ বছর আগের এক স্মৃতিকে উসকে দিয়েছে। তখন কেরালার আলাপুঝায় সাই হোস্টেলে ওয়াটার স্পোর্টস সেন্টারের এক ছাত্রী আত্মঘাতী হয়েছিলেন। তাঁর সুইসাইড নোটও মেলে। সিনিয়র কোচদের শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার জেরে তিনি আত্মঘাতী হন। সাই কর্তৃপক্ষের দিকেও অভিযোগের আঙুল ওঠে। সরকার এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেয়। অকাল মৃত ছাত্রীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণও দেয় সরকার। দীর্ঘ দশ বছর পর ফের কেরালার সাই হোস্টেলে দুই নাবালিকা খেলোয়াড়ের রহস্যজনক মৃত্যুতে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি থমথমে।

Be the first to comment