রোজদিন ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২, রাজ্যে আগামীকাল থেকেই বহু চর্চিত SIR-এর কাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে। ভোট মুখি রাজ্যগুলি সহ একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত রাজ্যে এই কাজ চলবে। আজ রাত ১২টায় ভোটার তালিকা ফ্রিজ করে দেওয়া হবে বলে কেন্দ্রীয় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার আজ জানিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া তামিলনাড়ু, কেরালা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি, আন্দামান নিকোবর ও লাক্ষাদ্বীপে এই কাজ হবে। এই ১২টি রাজ্যে ৫১ কোটি ভোটারের তালিকা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখবে কমিশন। কোন সমস্যা হলে প্রয়োজনে বিএলও-রা তিনবার ভোটারের বাড়ি যাবেন।
ইসিআই জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দেন, ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম আছে তাঁদের আর কোন কাগজ দিতে হবে না৷ নিজের নাম না থাকলেও আগের তালিকায় তাঁদের বাবা মা এর নাম থাকলেও হবে।
আজ দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ডাকা এই সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে এই রাজ্য-সহ বিভিন্ন মহলে কৌতুহল ছিল। আজ বিকেল চারটে উনিশ মিনিটে কেন্দ্রীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, দুই উপ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু, বিবেক যোশি সহ পদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত হন।
বৈঠকের শুরুতেই জ্ঞানেশ কুমার ছট পুজো উপলক্ষে বিহার-সহ সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।
দাবি করেন, বিহারে এসআইআর সফলভাবে হয়েছে। এবার ভোটমুখি কয়েকটি রাজ্য-সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত রাজ্যে এই এসআইআর শুরু হচ্ছে।
এস আই আর নিয়ে ইসিআই-এর ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই রাজ্যর প্রসঙ্গ ওঠে।
জনৈক সাংবাদিক বলেন, এই রাজ্যে এসআইআর হলে রক্ত গঙ্গা বইবে বলে শাসক দলের অনেকে মন্তব্য করেছেন।
উত্তরে জ্ঞানেশ কুমার অত্যন্ত শান্তভাবে জানিয়ে দেন, এটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। তাঁর আশা, সকলেই তা মেনে নেবেন।
কেরালাতেও এসআইআর পিছিয়ে দেওয়ার দাবি নিয়ে প্রশ্নে একই উত্তর দেন তিনি।
আগামী বছর বিজেপি শাসিত অসমেও বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। আজ ইসিআই-এর এসআইআর তালিকায় অসমের নাম নেই কেন?
এই প্রশ্নে জ্ঞানেশ কুমার জানান, অসমের নাগরিকত্ব বিষয় সারা দেশের থেকে আলাদা। অসমে কবে এই কাজ হবে তা পরে জানানো হবে।
এসআইআরে আধার কার্ড গৃহীত হবে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। কমিশন নির্ধারিত নির্দিষ্ট তথ্য এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে তিনি পরিস্কার জানিয়ে দেন। এসআইআর নিয়ে আগামী কাল থেকেই নির্বাচন কমিশন তৎপর হচ্ছে।
আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর অবধি বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দেবেন ও তা সংগ্রহ করবেন। ১৮ বছর বয়েস হলে ভোটার তালিকায় নাম তোলা যাবে। একজন ভোটারের নাম একাধিক জায়গায় কোন ভাবেই রাখা যাবে না।
৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। ওই দিন থেকে ৮ জানুয়ারি অবধি তালিকায় নাম থাকা বা না থাকা নিয়ে কমিশনে অভিযোগ ও দাবি জানানো যাবে। ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি অবধি শুনানি ও ভেরিফিকেশন পর্ব চলবে। ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে।
কেন্দ্রীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দৃঢ় ভাবে জানান, ভোটার তালিকা স্বচ্ছ, নির্ভুল ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা। স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত দেশে ৮ বার এসআইআর হয়েছে। এই কাজে যুক্ত বিএলও-সহ সকলেই সরকারি কর্মী। রাজনৈতিক দলগুলিকেও এই বিষয়ে সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি।
আগামী কাল এই বিষয়ে সর্বদলীয় বৈঠক হবে বলে অন্য সূত্রে জানা যায়।
আগামী বছর ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই এই রাজ্য-সহ ভোটমুখি অন্য রাজ্যগুলিতে বিধানসভা নির্বাচন হবে বলে জানা যায়।
প্রতি বছর ভোটার তালিকা সংশোধন হলেও এসআইআরের সঙ্গে তার তফাৎ আছে। এসআইআরের জন্য ১১টি নথি নির্দিষ্ট করেছে কমিশন। এর যে কোন একটি দেখাতে পারলেই তাঁর নাম ভোটার তালিকায় থাকবে।
কেউ নিরক্ষর বা ফর্ম ভরতে অপারগ হলে বিএলও-রা তাঁদের সহায়তা করবেন বলেও আজ ইসিআই জানিয়েছেন।
সূত্রের খবর, ২০০২ সালে রাজ্যের ভোটার তালিকায় ৪.৫৮ কোটি ভোটার ছিলেন। এখন তা বৃদ্ধি হয়ে ৭.৬৫ কোটি হয়েছে। এর মধ্যে কার নাম থাকবে, কার নাম বাদ যাবে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Be the first to comment