রোজদিন ডেস্ক : গ্রামের সরপঞ্চের দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় কৃষককে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হল গুজরাটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ অভিযুক্ত সরপঞ্চ ও তাঁর পরিবারের চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
হাড়হিম এই ঘটনা হয় গুজরাটের আনকালভ তালুকার আমবাভ গ্রামে। সূত্রের খবর, গ্রামের মহিলা সরপঞ্চ কোকিলাবেন ও তাঁর পরিবারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কৃষক ভরতভাই পাদিয়ার গত অক্টোবর মাসে জেলা উন্নয়ন আধিকারিক, তালুকা উন্নয়ন আধিকারিক, উন্নয়ন কমিশনার, এমন কি মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও অভিযোগ করেছিলেন। কোন জায়গা থেকে সাড়া না পেয়ে তিনি প্রচার মাধ্যমে যান। এর পর থেকেই তাঁকে হুমকি দেওয়া শুরু হয় বলে হাসপাতালের শয্যা থেকে বলে ভরতভাই। বলেন, প্রথমে সরপঞ্চের স্বামী তাঁকে হুমকি দেন। পরে বার্তা আসে, তাঁকে বাঁচিয়ে রাখা হবে না। ঘটনার দিন তাঁর বাড়িতে একটি ভজন গানের অনুষ্ঠান ছিল। তিনি জানান, বাজরা গুঁড়ো করার জন্য তিনি বাড়ির বাইরে যেতে একটি গাড়ি তাঁর কাছে এসে দাঁড়ায়। আহত ভরতভাই এর দাবি, গাড়িতে কোকিলাবেন, তাঁর স্বামী দিনেশভাই, ছেলে নিলেশভাই, রাজেশভাই ও ভাইপো ছিলেন।
প্রথমে ওঁরা তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে মারে ও টানতে টানতে গ্রামের মাঝামাঝি নিয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, সরপঞ্চ কোকিলাবেন তাঁকে দড়ি দিয়ে বাঁধেন ও তাঁর ছেলেরা তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে দেয়, তারপর দেশলাই জ্বেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গ্রামবাসীরা টের পেয়ে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কাছের সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়,পরে তাঁকে সেখান থেকে ভাদোদরা সয়াজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ভয়ানক ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য দেখা দেয়। আনন্দ জেলা উন্নয়ন আধিকারিক দেবাহুতি স্বীকার করেন, এই বিষয়ে আগে অভিযোগ পেয়েছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভরতভাই বলেন, তিনি বিচার চেয়েছিলেন, ওরা তাঁকে মারতে চেয়েছিল।

Be the first to comment