বিউটি চাঁদ:
দীর্ঘ টালমাটালের পর সব পক্ষই পালন করল ২১জুলাই। তবে সকলের নজর ছিল ঋতব্রত শিবির বনাম কালীঘাটের দিকে। দিন শেষে এ যেন সরকারি স্কুলগুলোর মতো ছবি ধরা পড়ল দুই তরফ থেকে। কোনো বিদ্যালয়ে যেমন প্রচুর শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন কিন্তু ছাত্রছাত্রী নেই, তেমনি কোথাও অনেক ছাত্র ছাত্রী থাকলেও শিক্ষক শিক্ষিকাদের সংখ্যা কম।

এখানেও সেই তুলনা টানা যেতে পারে। ঋতব্রতদের মঞ্চে অধিক সংখ্যক বিধায়ক নেতানেত্রী থাকলেও কর্মীসমর্থকদের দেখা সেইভাবে মেলেনি। অন্যদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে গুটিকয়েক মন্ত্রী থাকলেও কর্মী সমর্থকদের সংখ্যা ও উচ্ছাস – উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মত।
আজ বিধাননগর করপোরেশনের প্রাক্তন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীকেও মেয়ো রোডের মঞ্চে দেখা যায়। বিদ্রোহী তৃণমূল শহীদ ও শহীদ পরিবারগুলিকে শ্রদ্ধা জানানোর পর একে একে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন। সর্বপ্রথম বক্তা ছিলেন রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিপ্লব মিত্র। এরপরে শিউলি সাহা, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্ররা নিজেদের বক্তব্য রাখেন। সর্বশেষ বক্তা ছিলেন ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং সেই সময়ই ওখানে থাকা চেয়ারের সংখ্যা ফাঁকা হতে শুরু করে।

তবে হুংকার দিতে ছাড়লেন না কোনো পক্ষই। এদিন ববি বলেন, ‘ধন্যবাদ জানাই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে, যিনি কমিশনের ফাইল সামনে আনলেন আমরা মমতার নেতৃত্বে লড়াই করেছি। কিন্তু রক্ত বড় না ভক্ত বড়? কবে আসবেন রক্তের সম্পর্ক ছেড়ে। আবার মদন মিত্র চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, অভিষেক এটা ঠিক, ডায়মন্ড হারবারে চমকেছিস, এটা ঠিক হিংসাতে স্বাস্থ্যসাথীকে রুখতে সেবাশ্রয় করেছিস, এটা জেনে রাখ, তোর চমকানিতে সিপিএম চমকাতে পারে, তোর চমকানিতে দুটো তৃণমূলের ভাল কর্মী গ্রামে চমকাতে পারে। আজকের সভাকে চমকানোর ক্ষমতা তোর নেই। অভিষেক এক ঘণ্টা সময় দিয়েছে, আমি ২ ঘণ্টা সময় দিয়ে গেলাম। ২ ঘণ্টার মধ্যে তুই এই জনসভায় এসে বল, আমি আমার অন্যায় স্বীকার করছি। আমার ভুল স্বীকার করছি। আমার জন্য গোটা পার্টিটা শেষ হয়ে গিয়েছে।” সরাসরি মমতাকে চ্যালেঞ্জ, “আমি অন্য কাউকে নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলছি, অভিষেক ১ ঘণ্টা সময় দিয়েছে, আপনাকে আমরা ১ মাস সময় দিচ্ছি। আপনি অভিষেকের হাত ছেড়ে দিয়ে, তৃণমূলের ছেলেদের হাত ধরুন। আপনার দলটা তৃণমূলের পার্টি।
পুরোনো স্বমহিমায় ফিরে এলেন অনুব্রত। তিনি বলেন , ‘যারা চুড়ুম বুড়ুম করছেন, করবেন না। দলটার নাম তৃণমূল। মানুষের পাশে থাকে। খেটে খাওয়া মানুষের পাশে থাকে। এর পরের বার দেখবেন তৃণমূল বিরাট একটা আকার নেবে।’
ওদিকে, বিড়লা তারামন্ডলের মঞ্চ থেকে অভিষেক যে সকলে দল ছেড়ে বেরিয়েছে তাদের আর কোনো দিন দলে না নেওয়ার বার্তা দেন। তাতে সম্মতি জানিয়ে মমতা ব্যানার্জি বলেন, “নকল বেড়াল তপস্বী না হয়ে, বিজেপির পাশবালিশ না হয়ে সরাসরি বিজেপিতে যান।” এরপরেই আবার স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে বলে ওঠেন, “আমরা বেঁচে গিয়েছি। চোরগুলো বিজেপিতে চলে গিয়েছে। না, নেব না। একদম নেব না। আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে। এই লড়াই তখনই থামবে যখন দেখব আপদগুলো বিদায় নিয়েছে। ”

Be the first to comment