রবীন্দ্রপল্লিতে পানীয় জলের হাহাকার: বছরঘোরে ‘সমীক্ষা’, কাজের হদিস নেই

Spread the love

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর:
কৃষ্ণনগর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাজবাড়ি লাগোয়া রবীন্দ্রপল্লি আজও নলবাহিত পানীয় জলের সুবিধাবিহীন। কথায়-কথায় প্রতিশ্রুতি মেলে, পুরসভা একের পর এক সমীক্ষা করে—কিন্তু বাস্তবে জলের একফোঁটাও এসে পৌঁছয় না। ভূগর্ভস্থ জলে অত্যধিক আর্সেনিক থাকায় টিউবওয়েল দিয়েও উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়ে এলাকার মানুষ টাকা খরচ করে জল কিনে বাড়িতে ব্যবহার করছেন।

বছরের পর বছর ধরে একই চিত্র—মাপজোক, কাগজপত্রে তথ্য ভরানো, ছবি তোলা, তারপর নিস্তব্ধতা। পরের বছর আবার সেই একই ‘সমীক্ষা’। বাসিন্দাদের ক্ষোভ, এই সমীক্ষাগুলো যেন একটা চলমান প্রহসন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের অন্যান্য ওয়ার্ডে দ্রুত জলসংযোগ পৌঁছে গেলেও রবীন্দ্রপল্লি যেন চিরকাল অপেক্ষার ঘরে আটকে আছে।

জলই নয়—এলাকার রাস্তাঘাটও কার্যত ভাঙাচোরা। বহু জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে মাটি বেরিয়ে এসেছে। যেসব জায়গায় ঢালাই রাস্তা আছে, সেখানেও ফাটল আর গভীর গর্তে ভরপুর। চলাফেরা করাই এখানে প্রতিদিনের ঝক্কি।

স্থানীয়দের অভিযোগ স্পষ্ট—
“আমাদের এই এলাকায় বাড়ি করাটাই ভুল হয়েছে,” বলছেন বহু বাসিন্দা।
“বছরের পর বছর শুধু মাপজোক হচ্ছে, কাজে হাত দেওয়া হচ্ছে না।”

রবীন্দ্রপল্লির মানসী কুণ্ডুর কথায় হতাশার সুর,
“কাউন্সিলার আর পুরসভাকে বারবার বলেছি। প্রতি বছর সমীক্ষা হয়, কিন্তু পাইপলাইন বসানোর কাজ কবে শুরু হবে তার কোনও উত্তর নেই।”

শীতের মুখে জলের টান আরও প্রকট। বাসিন্দা শোভন দত্তের অভিযোগ,
“অন্য ওয়ার্ডে কাজ শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের এলাকায় যেন কেউ নজরই দিচ্ছে না। কমপক্ষে পানীয় জলটা নিশ্চিন্তে পাওয়ার ব্যবস্থা হোক।”

প্রাক্তন কাউন্সিলার শিশির কর্মকার অভিযোগ তুলেছেন আরও সরাসরি ভাষায়। তাঁর দাবি,
“জল ও রাস্তার কাজ না হওয়ার কারণ জানতে হলে প্রাক্তন চেয়ারপার্সনকে জিজ্ঞাসা করুন। এলাকাবাসী মুখ্যমন্ত্রীর পোর্টালে আবেদন করেছিলেন—দু’বার নির্দেশও আসে। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।”

এ অভিযোগের জবাবে পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারপার্সন রীতা দাস পাল্টা খোঁচা দেন,
“১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ছিলেন পরিযায়ী পাখি। যেখানেই যান সেখানেই ক্ষতি করেন।”

এদিকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন কৃষ্ণনগর পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও সদর মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী। তাঁর কথায়,
“পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”

রবীন্দ্রপল্লির মানুষ এখন শুধু একটি জিনিসই চাইছেন—
অবসান হোক বছরের পর বছর ধরে চলা ‘সমীক্ষার চক্র’।
পানীয় জল ও রাস্তার পরিষেবা যেন অবশেষে বাস্তবে এসে পৌঁছয় তাদের দোরগোড়ায়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*