ইয়াসের দোসর ভরা কোটাল। ভরা কোটালের জন্য প্লাবিত বহু এলাকা। আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার অবধি সাবধানে থাকার পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাত ৮.৪৫-এও কোটালের বান আসার পূর্বাভাস। মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, এখনই দুর্যোগ কেটে গিয়েছে ভেবে কেউ বিকল্প বাসস্থান ছেড়ে ফিরবেন না। একইসঙ্গে গঙ্গার পাশে যারা থাকেন তাদেরও সাবধান থাকার পরামর্শ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
নবান্নে আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভরা কোটালে ঘূর্ণিঝড়ের কারণেই অনেক ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে জানান রাত ৮.৪৫ পর্যন্ত জোয়ার চলবে তারপর নামবে জলস্তর। আগামীকাল অবধি জলস্তর থাকবে পাঁচ ফুটের উপর। আবারও বান এলে গঙ্গা ও সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রচুর মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
কোটালের জলে ও বৃষ্টিতে রাজ্যে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্লাবিত প্রচুর গ্রাম। ১৫ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘১৩৪টি বাঁধ ভাঙার খবর মিলেছে। ভেঙেছে তিন লাখেরও বেশি বাড়ি। মানুষসমান উঁচু ঢেউ উঠেছে। এই দুর্যোগের কবলে ১ কোটি মানুষ। নোনাজল ঢুকে যাওয়ায় চাষের জমির ক্ষতি হয়েছে। মাছচাষও ক্ষতিগ্রস্থ। ‘ একইসঙ্গে রাজ্যে ইয়াসের বলি ১ জন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যদিও এটি দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু। নিরাপদ স্থানে পৌঁছনোর পরও উনি কোনও জিনিস আনতে বাইরে বেরিয়েছিলেন।’
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত। পুরো ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করতে ৭২ ঘণ্টা লাগবে। কলকাতার কালীঘাট, চেতলা, রাসবিহারীতেও জল উঠেছে।’

Be the first to comment