২১ জুলাই (21 July Commission) এর আগের দিন এই সংক্রান্ত তদন্ত রিপোর্ট বিধানসভায় প্রকাশ করে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : (21 July Commission Report)
আগামীকাল ২১ জুলাই পালন নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের চূড়ান্ত তৎপরতার মাঝে আজ বিধানসভায় এই সংক্রান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ২১ জুলাইকে (21 July Commission) হাতিয়ার করে দীর্ঘ আন্দোলনে নেমেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ক্ষমতায় এসে এই নিয়ে সুশান্ত চ্যাটার্জির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশনও গঠন করেছিলেন। যদিও সেই রিপোর্ট তিনি প্রকাশ করেননি। আজ বিধানসভায় তা প্রকাশ করে নাম না করে তাঁকে তুলোধুনো করেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।
নাম না করে বিস্ফোরক ভঙ্গিতে বলেন, ২১ জুলাই ব্যবহার করে অনেকে অনেক কিছু করে নিয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পদ বা সরকারি ক্ষমতাই না, ব্যক্তিগত বিষয় সম্পত্তি, আমেরিকায় গিয়ে চোখের চিকিৎসা, চার্টার্ড বিমানে ঘোরা, হরিশ চ্যাটার্জি ও হরিশ মুখার্জি স্ট্রীটে ৩৮ প্লটের মালিক হওয়া, অসংখ্য প্রাসাদের মত বাড়ি তৈরি করা ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রাক্তন সরকারের আমলে কমিশন রিপোর্ট পেশ করলেও তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। গণতন্ত্রের মন্দির হিসাবে এই বিধানসভায় তা পেশ করা যুক্তিযুক্ত বলে তিনি মনে করেন।

কমিশন এই তদন্তে প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সহ ৪৪ জনকে তলব করেছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,তৎকালীন আন্দোলন কারী মূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে কমিশন ডাকার প্রয়োজন ই বোধ করেনি। এর পাশে প্রাক্তন বিরোধী নেতা প্রয়াত পঙ্কজ ব্যানার্জির বক্তব্য তিনি সভায় পড়েন, পঙ্কজ বাবু ওই কমিশনে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, তাঁর বিশ্বাস, ২১ জুলাই গুলি চালনার জন্য একমাত্র দায়ী ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব মণীশ গুপ্ত। কিন্তু সেই অভিযুক্ত ই মমতা ব্যানার্জির মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। তাই কমিশন কেন মণীশ গুপ্তর নাম করেন নি বা তাঁকে দায়ী করেননি, তা স্পষ্ট বলে প্রয়াত পঙ্কজ ব্যানার্জি মন্তব্য করেছিলেন৷

কমিশন এই তদন্তে প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সহ ৪৪ জনকে তলব করেছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তৎকালীন আন্দোলনকারী মূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে কমিশন ডাকার প্রয়োজনই বোধ করেনি। এর পাশে প্রাক্তন বিরোধী নেতা প্রয়াত পঙ্কজ ব্যানার্জির বক্তব্য তিনি সভায় পড়েন, পঙ্কজ বাবু ওই কমিশনে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, তাঁর বিশ্বাস, ২১ জুলাই গুলি চালনার জন্য একমাত্র দায়ী ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব মণীশ গুপ্ত। কিন্তু সেই অভিযুক্তই মমতা ব্যানার্জির মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। তাই কমিশন কেন মণীশ গুপ্তর নাম করেননি বা তাঁকে দায়ী করেননি, তা স্পষ্ট বলে প্রয়াত পঙ্কজ ব্যানার্জি মন্তব্য করেছিলেন৷

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, এই তদন্ত রিপোর্টে বেশ কিছু বিস্ফোরক পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে৷ প্রথমত কোন উপযুক্ত তদন্ত হয়নি। কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার তুষার তালুকদারের রিপোর্ট অসামঞ্জস্যপূর্ণ, কার নির্দেশে গুলি চলেছিল তা প্রকাশে তিনি অস্বীকার করেছেন। প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী মনীশ গুপ্তকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওঁকে বা প্রশাসনিক পদস্থ কর্তাদের বাঁচাতে ফাইল ও নথি গায়েব করা হয়েছে। কমিশন পরিস্কার জানিয়েছে, সাবেক মহাকরণ থেকে অনেক দূরে মেয়ো রোড সহ সংলগ্ন এলাকায় গুলি চালনার কোন প্রয়োজনই ছিল না। তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ছিল।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অস্বস্তি বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, কমিশন ২১ জুলাই (21 July Commission)-এ নিহত ও আহতদের যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল, তা ও দেওয়া হয় নি। কমিশন নিহতদের পরিবারপ্রতি ২৫ লক্ষ টাকা ও আহত দের মাথা পিছু ৫ লক্ষ টাকা দিতে সুপারিশ করেছিল। তৃণমূল সরকার মাত্র ২ লক্ষ (নিহতদের) ও আহতদের ১৫ হাজার টাকা দিয়ে প্রতারণা করেছে বলে তোপ দাগেন। বলেন, লজ্জা করে না!! ক্ষতিগ্রস্ত রা দাবি করলে তিনি তা বিবেচনা করবেন বলেও ইঙ্গিত দেন।

এমনকি মহাকরণ, লালবাজার থেকে এই গুলিচালনার ফাইলও খোওয়া যায়, তা নিয়েও প্রাক্তন সরকার কিছু করেনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভায় বিদ্যুৎমন্ত্রী যাতে ফেঁসে না যান সেই ব্যবস্থাই করেছিলেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।
শুধু তাই নয়, আমফান ও কোভিডের দুর্নীতির রিপোর্টও শীঘ্র সামনে আসবে বলে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন। তিনি ১৯৯৩ সালের শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
তৃণমূলের প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী মনীশ গুপ্ত সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রভূত প্রশংসায় মুখর হন।
নিন্দুকেরা মনে করেন, ২১ জুলাই এর ফাইল নাড়াচাড়ার খবর ভেসে উঠতেই তাঁর এই ভোলবদল।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*