পুরীর গুন্ডিচা মন্দিরের সামনে প্রবল ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত ৩, আহত অনেকেই

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- ভোর সাড়ে চারটে। রথযাত্রার তৃতীয় দিন। পুরীর গুন্ডিচা মন্দিরের সামনে জগন্নাথদেবকে দেখতে হাজার হাজার ভক্ত আজ (রবিবার) ভোর থেকেই গুন্ডিচা মন্দিরের সামনে শারধাবলীতে দর্শনের জন্য জড়ো হয়েছিলেন। ঠিক সেই সময়ই হুড়োহুড়ি শুরু হয়। রথের সামনে ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলিতে মৃত্যু হয় দুই মহিলা-সহ ৩ জনের। আহতের সংখ্যাটা অন্তত ১০৷ আহত সকলকে চিকিৎসার জন্য পুরী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত এক তরুণী সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা সুভদ্রার রথের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। আচমকা ঠেলাঠেলি শুরু হয়। তাঁর বাঁ-পায়ে চোট লেগেছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা সকলেই আহত। এরপরই সরকারের বিরুদ্ধে অব্যবস্থার অভিযোগ তুলেছেন ওই তরুণী। এদিন সেখানে কোনও সরকারি আধিকারিক, পুলিশ প্রশাসন এমনকী কোনও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা ছিল না। ঘণ্টাখানেক ধরে তাঁরা হাসপাতালে আসার জন্য চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। শেষে নিজেদের গাড়িতে করে তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছন। এখনও পর্যন্ত ৩ জনের মৃ্ত্যুর খবর পেয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, পুরী জেলা সদর হাসপাতালের সিডিএমও অক্ষয় সৎপথী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “শ্রীগুন্ডিচা মন্দিরের রথের সামনে ভক্তদের বিশাল ভিড়ে জমে যায়। পদপিষ্টের মতো ঘটনা ঘটে। ১০ থেকে ১১ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে।” তবে, তিনি মৃত্যু নিয়ে কোনও কথা বলেননি। পুরী অতিরিক্ত এসপি সুশীল মিশ্র বলেন, “এই ঘটনায় ১১ জন আহত হলেও তাঁরা প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ঘটনার তদন্ত করা হবে। আমরা এখনও কোনও হতাহতের খবর পাইনি।”
উল্লেখ্য, এবার রথযাত্রায় পুরীতে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। রথযাত্রার দিন থেকে ভিড়ের চাপ বা ঠেলাঠেলিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৭০০ জনেরও বেশি ভক্ত। তাঁদের সকলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রসঙ্গত, রীতি মেনে শুক্রবার অর্থাৎ রথযাত্রার দিন ‘মাসির বাড়ি’ পৌঁছনার কথা ছিল জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রার। কিন্তু, ভক্তদের ভিড়ে সেদিন ‘মাসির বাড়ি’ পৌঁছতে পারেনি বলরাম, সুভদ্রা এবং জগন্নাথদেবের রথ। পথেই রাত্রিযাপন করতে হয় তিন ভাইবোনকে। গতকাল অর্থাৎ শনিবার সকালে নিজ নিজ রথে করেই গুন্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেন। দুপুরে মাসির বাড়ি পৌঁছয় বলরামের তালধ্বজ, সুভদ্রার দর্পদলন এবং জগন্নাথদেবের ‘নন্দীঘোষ’ রথ। আর আজ সকালে ঘটল অঘটন। সুভদ্রার রথের সামনে প্রবল ভিড়ে ঠেলাঠেলিতে মৃত্যু হয় দুই মহিলার।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*