বদলে যাচ্ছে বিশ্ব, করোনা পরবর্তী বিশ্ব আর আগের মতো থাকবে না বলেই জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, আগামিদিনে নানা ঘটনাকে প্রাক করোনা ও করোনা পরবর্তী সময় হিসাবেই বিচার করা হবে।
বুদ্ধ পূর্ণিমার তিথিতে ভার্চুয়াল একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্যকর্মী ও করোনা যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি জানান, প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রথম সারির যোদ্ধারা নিরন্তর যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে করোনাযুদ্ধে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘও অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “করোনা সংক্রমণের পর আমাদের পৃথিবী আর আগের মতো থাকবে না। একটা সময় আসবে যখন আমরা নানা ঘটনাকে প্রাক করোনা ও করোনা পরবর্তী সময় হিসাবেই মনে রাখব। আমি আরও একবার আমাদের দেশের সমস্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রথম সারির যোদ্ধাদের সম্মান জানাই, যারা নিরন্তর নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বাকিদের প্রাণ বাঁচাতে লড়াই চালিয়েছেন। যারা এই যুদ্ধে নিজেদের পরিবারকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও আমার সমবেদনা রইল।”
করোনা যুদ্ধে ভারতীয় বৈজ্ঞানিকদের অবদানের কথাও স্বীকার করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “করোনা সম্পর্কে আমাদের সম্যক ধারণা তৈরি হয়ে যাওয়ায় এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিকল্পনা করতেও সুবিধা হয়েছে। এই যুদ্ধে ভ্যাকসিনও সাহায্য করেছে। এই ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য ভারতের বিজ্ঞানীদের উপর আমরা সকলে গর্বিত। গত বছর বহু ব্যক্তি ও সংস্থাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল।”
করোনা মোকাবিলায় মনোযোগ দিলেও মানবজাতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বাকি চ্যালেঞ্জগুলিও ভুললে চলবে বলেই মত প্রধানমন্ত্রীর। তিনি বলেন, “করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। তবে বাকি প্রতিবন্ধকতাগুলিকেও ভুললে চলবে না। বর্তমানে অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জ হল আবহাওয়া পরিবর্তন। ক্রমাগত আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে, হিমবাহ গলে যাচ্ছে, নদী ও জঙ্গলগুলি নানা বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে। আমরা পৃথিবীকে এভাবে ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থায় ফেলে রাখতে পারি না।”
গৌতম বুদ্ধের জীবনের নীতি প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, শান্তি, ঐক্য ও সহাবস্থানের উপর ভিত্তি করেই গৌতম বুদ্ধের জীবন আবর্তিত হয়েছিল। বর্তমানে এমন অনেক শক্তিই রয়েছে যারা হিংসা, ঘৃণা ও অশান্তির উপরই ভিত্তি করে টিকে থাকে। মানবতার উপর আস্থা রেখে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

Be the first to comment