‘ইয়াস’ আছড়ে পড়েছে। ভয়াবহ তাণ্ডব চলছে। তার মধ্যেই প্রকৃতির রোষ থেকে প্রাণে বাঁচতে ত্রান শিবিরের দিকে ছুটছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর ২ ব্লকের বাসিন্দা এক যুবক। কিন্তু না, শেষরক্ষা হয়নি। ইয়াসের তাণ্ডবে প্রাণ গিয়েছে তাঁর। ত্রাণ শিবিরে পৌঁছনোর আগেই জলের তোড়ে ভেসে যান তিনি। মর্মান্তিক মৃত্যু হয় তাঁর। জেলা প্রশাসনের তরফে ওই যুবকের মৃত্যুর বিষয় ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেন, “ঝড়ের তাণ্ডবে ১ জন মারা গিয়েছেন। তিনি রিলিফ ক্যাম্পে এসেও মাছ ধরতে গিয়েছিলেন।”
নির্ধারিত সময়ের আগেই ওড়িশার ধামরা ও বালেশ্বরের মাঝে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ শুরু হয় ল্যান্ডফল। এখনও সেখানে তাণ্ডব চালাচ্ছে এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। কিন্তু বাংলায় ইয়াস প্রবল তাণ্ডব না চালালেও সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস ও ভরা কোটালের কারণে বানভাসী বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকা। দিঘা, মন্দারমণি থেকে সাগরের কপিল মুনি আশ্রম বাদ রইল না কিছুই। একের পর এক এলাকা প্লাবিত হল প্রবল বৃষ্টি আর জলোচ্ছ্বাসে।
এদিন ইয়াস আছড়ে পড়ার আগেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দিঘা। উত্তাল ঢেউ এসে সমুদ্রের গার্ডরেল ভেঙে ফেলে। গোটা দিঘা শহর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কখনও সখনও নারকেল গাছের মাথা ছুঁয়ে ফেলছে সমুদ্রের ঢেউ। দিঘার বাসিন্দারা বলছেন, স্মরণকালে এই দৃশ্য আর দেখেননি তাঁরা। দিঘায় হাওয়ার গতি অন্তত ৮৮ কিলোমিটার/ ঘণ্টা। দিঘা, শঙ্করপুর, নামখানা, সুন্দরবন-সহ উপকূলের বেশ কিছু এলাকা ভেসে গিয়েছে। আর বুধবার সকালে যেন চেনা দায় দিঘা শহরকে। জলের তলায় চলে গিয়েছে বহু গাড়ি, বড় রাস্তায় কোমর সমান জল। পারে এসে আছড়ে পড়ছে দানবীয় এক-একটা ঢেউ। মন্দারমণিতেও একই রকম ভয়ঙ্কর চিত্র। জলে ভেসে গিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা।

Be the first to comment