ইয়াসের ল্যান্ডফল শেষ। পশ্চিমবঙ্গের উপকূল ঘেঁষে ঝাড়খণ্ডের পথে এগিয়েছে অতি তীব্র এই ঘূর্ণিঝড়। কলকাতা লাগোয়া এলাকায় ইয়াস খুব বেশি তাণ্ডব দেখায়নি। তবে সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকাগুলি, বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক এলাকা রীতিমতো জলমগ্ন। বাঁধ ভেঙেছে বহু জায়গায়। অসংখ্য মানুষ এখনও আটকে রয়েছেন জলে। এই অবস্থায় দ্রুত উদ্ধারকার্যে নেমেছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। সমানভাবে হাত লাগিয়েছে বায়ুসেনা ও নৌসেনাও। তবে ইয়াসের শক্তি ক্ষয় হয়ে এলেও পুরোপুরি চিন্তামুক্ত হওয়া যাচ্ছে না।
দুপুর ৩ টে বাজার আগে ঝোড়ো হাওয়া কমে এলেও মাঝেমধ্যেই হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাত চলছেই। ফলে দুর্যোগ কপালে নিয়েই উদ্ধারকার্যে নেমেছে অসংখ্য উদ্ধারকারী দল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এলাকায় এলাকা থেকে দুর্গতদের শুকনো জায়গায় নিয়ে আসার কাজ চলছে। ইয়াসের তাণ্ডবে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, ল্যান্ডফল শেষ হলেও নিশ্চিন্ত হওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে কোনও ঝুঁকি না নিয়েই দ্রুত বাসিন্দাদের সরানো হচ্ছে জলমগ্ন এলাকা থেকে।
সূত্রের খবর, পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা-সহ একাধিক এলাকায় উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। সেনার সদস্যরাও নেমেছেন পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা, পাথর প্রতিমা, গঙ্গাসাগর-সহ একাধিক এলাকায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে ১৩০ টির বেশি বাঁধ ভেঙেছে। ফলে এখনও আশঙ্কা কাটছে না। মমতা নিজেও শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরে উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন বলে জানিয়েছেন। সেচ দফতরকেও তিনি নির্দেশ দিয়েছেন জলাধারগুলির উপর নজর রাখতে যাতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

Be the first to comment