রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় অটো উলটে মায়ের মৃত্যু। তাও পরীক্ষা দেওয়া থেকে পিছপা হল না মেয়ে। মায়ের মৃত্যুর পরেও চোখে জল নিয়েই পরীক্ষা দিতে গেল ওই ছাত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অটোতে চেপে মায়ের সঙ্গে পরীক্ষার সেন্টারের দিকে যাচ্ছিল আইসিএসসির এক দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থী। কিন্তু যাওয়ার পথেই সেই অটো উলটে মৃত্যু হল পরীক্ষার্থীর মায়ের। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ওই অটোর দুই সওয়ারিও। যাঁরা অন্য দুই পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগর পাওয়ার হাউস সংলগ্ন এলাকায়। ঘটনার জেরে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক গাড়ির চালককে গ্রেফতার করেছে। সেই সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অটোটিও। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে আইসিএসসির বোর্ড পরীক্ষা দিতেই সোদপুরের বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সৃজা সেনগুপ্ত নামে ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা শিউলি সেনগুপ্ত। তাঁর পরীক্ষার সেন্টার পড়েছে শ্যামনগরের আতপুরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। সেই কারণে সোদপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে করে প্রথমে মা ও পরীক্ষার্থী মেয়ে, দু’জনেই শ্যামনগর স্টেশনে নামেন। এরপর সেখান থেকে একটি অটোতে চেপে যাচ্ছিলেন পরীক্ষার সেন্টারের দিকে। কিন্তু মাঝপথে যে এমন ঘটনা ঘটবে, তা ভাবতেও পারেননি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন অটোটি একটি ইঞ্জিন ভ্যানকে কাটাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটে যায়। আর তাতেই চাপা পড়ে মৃত্যু হয় ওই মহিলার। ‘অটোতে মোট ছ’জন যাত্রী ছিলেন বলে খবর সূত্রের। তার মধ্যে তিনজন পরীক্ষার্থী। বাকি তিনজন তাঁদের অভিভাবক। তাঁরাও অল্প বিস্তার জখম হয়েছেন এই দুর্ঘটনায়।
এদিকে, সদ্য মাকে হারিয়ে বুকে একরাশ বেদনা নিয়েও সৃজা তার নির্দিষ্ট পরীক্ষা দিয়েছে এদিন। তাঁকে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে পুলিশই। অন্য দুই পরীক্ষার্থীকেও এদিন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় পুলিশের তরফ থেকে।
অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই ধৃত ওই অটো চালকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে।

Be the first to comment