রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা :- জঙ্গি দমনে ভারতীয় সেনার ‘শিব তাণ্ডব’। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের শাস্তি দিতে এবং জঙ্গিবাদ দমনে ভারতের অপারেশন সিঁদুর। সাধারণ পাকিস্তানিদের কথা মাথায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে টার্গেট চিহ্নিত করে অপারেশন চালানো হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে ছবি ও ভিডিওর প্রেজেন্টেশনে শত্রু দমনে কীভাবে সাফল্য এসেছে তা দেখাল এবং ব্যাখ্যা করল ভারতীয় সেনা।
এদিন শিব তাণ্ডবের স্ত্রোত্র দিয়ে শুরু হয় চার সেনাকর্তা সাংবাদিক বৈঠক। সেখানে মনে করানো হয়, কীভাবে পহেলগাঁওয়ে ২৮ জন নিরস্ত্র ভারতীয়কে হত্যা করা হয়েছিল। অপারেশন সিঁদুর পরিকল্পনার মূল লক্ষ্যই ছিল সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত অপরাধী এবং পরিকল্পনাকারীদের শাস্তি দেওয়া। জঙ্গিঘাঁটিগুলিকে ধ্বংস করা। ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই জানান, পাকিস্তান ও পিওকের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। ১০০-র বেশি জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে আইসি ৮১৪ অপহরণ এবং পুলওয়ামা হামলায় জড়িত জঙ্গিও রয়েছে।
৭ মে কীভাবে ভারতের বিমান বাহিনী হামলা চালিয়েছিল তা জানান এয়ার মার্শাল একে ভারতী। তিনি বহাওয়ালপুরে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংসের দৃশ্য তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি মুরিদকের জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা পরবর্তী দৃশ্যও প্রকাশ করা হয়। জানানো হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে জঙ্গি প্রশিক্ষিণ শিবিরকে টার্গেট করেছিল ভারত। যেমন, মুরিদকের জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে বোমা ফেলা হয়। এখানেই লস্করের প্রশিক্ষণ শিবির ছিল।
রাজীব ঘাই আরও জানান, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করে বেশ কিছু জনবহুল গ্রাম এবং গুরুদ্বারের মতো ধর্মীয় স্থানে আঘাত করার চেষ্টা করে।
ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল ঘাই জানান, ৯-১০ মে’র রাতে ভারতীয় আকাশসীমার অভ্যন্তরে ড্রোন এবং বিমান প্রবেশ করিয়েছিল পাকিস্তান। তারা বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা করে কিন্তু সেগুলির মধ্যে বেশির ভাগই প্রতিহত করা হয়েছে। কিছু আছড়ে পড়লেও সেগুলিতে বড় ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে। ৭-১০ মে’র মধ্যে ভারতীয় সেনার জবাবি হামলায় পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর প্রায় ৩৫-৪০ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে জানান ডিজিএমও ঘাই।
সাংবাদিক বৈঠকে এয়ার মার্শাল ভারতী জানান, জবাবি হামলায় পাকিস্তানের বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। এর মধ্যে রয়েছে চাকলালা, রফিকি-সহ বেশ কিছু অঞ্চল রয়েছে। পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, আগ্রাসী মনোভাবকে কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এয়ার মার্শাল জানান, এই ঘাঁটিগুলিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল ভারতের। কিন্তু ভারত নিয়ন্ত্রিত এবং পরিমিত জবাব দিয়েছে।
ভারতের সামরিক বাহিনীর তরফে সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, পাকিস্তানি সেনা বা সীমান্তের ও পারের বাসিন্দাদের সঙ্গে ভারতের কোনও লড়াই নেই। ভারতের লড়াই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। যে জঙ্গিদের নিধনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাদের হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এর পরেও পাকিস্তানের তরফে হামলা করা হয়েছে। সেই কারণেই ভারতকে জবাব দিতে হয়েছে।
ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল ঘাই জানান, শনিবার দুপুর ৩টে ৩৫ মিনিটে পাকিস্তানের ডিজিএমও-র সঙ্গে তাঁর কথা হয়। ওই আলোচনায় উভয় পক্ষই শনিবার বিকেল ৫টা থেকে সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়। ঘাই জানান, পাকিস্তানের ডিজিএমও-ই এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আগামী ১২ মে দুপুর ১২টায় এই নিয়ে আরও আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু হতাশাজনক এবং প্রত্যাশিত ভাবেই পাকিস্তানি বাহিনী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে। গত রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত ড্রোন হানার চেষ্টা হয়েছে। তার জবাবও দেওয়া হয়েছে। ঘাই জানান, রবিবার পাকিস্তানি ডিজিএমও-কে হটলাইনে বার্তা পাঠানো হয়েছে। ১০ মে’র সমঝোতা লঙ্ঘন করার বিষয়টি জানানো হয়েছে। রবিবার রাতে বা তার পরে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সেনা কমান্ডারদের তা প্রতিহত করতে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ঘাই।

Be the first to comment