পিয়ালি :- ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের শাহী সফর। বঙ্গে ঠাসা কর্মসূচি ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের।
শনিবার রাতে এলেন কলকাতায়। মাঝরাত পর্যন্ত বাইপাস সংলগ্ন হোটেলে দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক। পরদিন অর্থাৎ পয়লা জুন 2025 রবিবার রাজারহাট নিউটাউনে সিএফএস এলের ভবন উদ্বোধনের সরকারি অনুষ্ঠান l অপরাধ শনাক্তকরণ ও বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে দ্রুতগতিতে অপরাধী চিহ্নিত করতে সহায়ক হবে এই সি এফ এস এল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ন্যায় বিচার দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে হবে বললেন শাহ।
এরপরে তাঁর সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ হলো নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের কর্মীসভা। বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী 2026 সালের ভোটের দামামা বাজিয়ে দিয়েছিলেন।রবিবার অমিত শাহ ও সরাসরি ২৬ শে মমতা সরকার এবং তৃণমূলকে সমূলে উৎপাটনের হুঁশিয়ারি দিলেন। ভিড়ে ঠাসা ইনডোর স্টেডিয়াম যখন অমিত শাহ জিন্দাবাদ এ মুখরিত তখন ভারতীয় রাজনীতির আয়রণম্যান স্পষ্ট বলেন, জিন্দাবাদ করবেন পরে ২৬ শে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পর। কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর ,১০৮ করুণাময়ী কালী অর্থাৎ মাতৃ শক্তিকে স্মরণ করে বক্তব্য শুরু করেন অমিত শাহ। চিরাচরিতভাবে তার বক্তব্যে উঠে আসে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ থেকে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব স্বামী বিবেকানন্দ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী , ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র প্রসঙ্গ। বঙ্গভূমি এই মনীষীদের চরণস্পর্শে ঋদ্ধ। আর সেই সোনার বাংলাকে তৃণমূল তছনছ করছে বলে অভিযোগ তোলেন অমিত শাহ। তার বক্তব্যে উঠে আসে নির্বাচনী সন্ত্রাস প্রসঙ্গ। বলেন টি এন সেশন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার হওয়ার পর দেশে নির্বাচনী সন্ত্রাসের অবসান হয়েছিল। কিন্তু বাংলা ব্যতিক্রম। বাংলায় বাম শাসনের অবসান হয়ে তৃণমূল সরকার এসেছে, কিন্তু ভোট সন্ত্রাস শেষ হয়নি। শাহ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন – যদি ক্ষমতা থাকে হিংসা ছাড়া, রিগিং ছাড়া নির্বাচন করে দেখান দিদি -আপনাদের জামানত জব্দ হবে। দৃপ্ত কন্ঠে শাহ বলেন, দিদি আপনার সময় শেষ হয়ে এসেছে।
বেআইনি অনুপ্রবেশ নিয়ে সুর চড়ান শাহ। বলেন অনুপ্রবেশ রুখতে হবে, দিদি কি পারবেন অনুপ্রবেশ রুখতে? দিদি- ভাইপো আদৌ অনুপ্রবেশ রুখতে পারবেন ?অনুপ্রবেশ কেবলমাত্র কমল সরকার বা পদ্মের সরকার রুখতে পারে। মমতা দি আপনি জায়গা দিন। একটা ছোট পাখি বা পতঙ্গ ঢুকতে পারবে না ।আমরা বাংলায় বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখবো।
এরপর ভারতীয় রাজনীতির চাণক্য বাংলার জনগণের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন যে, অপারেশন সিঁদুর ঠিক হয়েছে কিনা ? তিনি বলেন মোদীজি যখন অপারেশন সিঁদুর করে বাংলায় এলেন তখন দিদি তাঁকে ভীষণভাবে অপমান করেন। দিদি আপনি অপারেশন সিঁদুরের অপমান করলেন শুধু তাই নয় এ দেশের মা বোনেদেরও অপমান করলেন।
শাহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের অভিযোগ আনেন। বলেন ,মুসলিম ভোট ব্যাংক নিশ্চিত করতে মমতাদি আপনি অপারেশন সিঁদুরের বিরোধিতা করলেন। সন্ত্রাসবাদীরা মারা গেলে আপনার পেট ব্যথা করে।
মোদির প্রশংসা করে শাহ বলেন বাংলার সংস্কৃতির কথা ভাবেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলা ও বাঙালির বহুদিনের দাবি বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দিতে হবে, প্রধানমন্ত্রী তা করেছেন এর জন্য মমতা দিদিপ্রধানমন্ত্রীকে একটাও ধন্যবাদ দেননি।
বাংলায় চাকরি ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ, নির্বাচনে হিংসা, নারীদের উপর অত্যাচার, মুসলিম তোষণ এবং মালদা মুর্শিদাবাদে স্টেট স্পন্সর্ড টেরোরিজমের অভিযোগ তোলেন শাহ। বলেন মুর্শিদাবাদের হিংসা হল আমরা বিএসএফ পাঠাতে চেয়েছিলাম কিন্তু বিএসএফকে ঢুকতে দিচ্ছিল না আমাদের কার্যকর্তারা হাইকোর্টে গেলেন বিএসএফ এল হিন্দুদের রক্ষা করল। এখানে স্টেট স্পন্সরড টেররিজম হয়েছে ,রাজ্যের মন্ত্রীরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে।
রাজ্যের মন্ত্রী মুর্শিদাবাদ দাঙ্গায় জড়িত বলে শাহ বলেন তোষণের রাজনীতি বাংলায় চূড়ান্ত আকার ধারণ করেছে, বাংলা এখন দুর্নীতি ও হিন্দু অত্যাচারের ঘাঁটি।
আবারো তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে শাহ বলেন সন্দেশখালীর মুখ্য অপরাধী কোন দলের আরজিকরের অপরাধী কোন দলের সঙ্গে যুক্ত ? আবারো তিনি বাংলায় সিন্ডিকেটরাজ চলছে বলে জানান ।মোদীজি যে টাকা পাঠান তার সিন্ডিকেট এই খরচ হয়ে যায়।
মালদা মুর্শিদাবাদের হিংসার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকেই দায়ী করেন শাহ।বলেন ২৬শে নির্বাচনে আমাদের সরকার তৈরি হবে বাংলায়। তিনি বলেন শান্তনু ঠাকুর তাকে অভিযোগ করেছেন হিন্দু শরণার্থীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে ,অমিত শাহ তাদের আশ্বাস দেন সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে ।বারবার তার কথায় অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ উঠে আসে। তিনি বলেন অনুপ্রবেশকারীরা দিদি ভাইপোর ভোট ব্যাংক।ভাবছে অনুপ্রবেশের জোরে 26 শে ভাইপো মুখ্যমন্ত্রী হবে। কিন্তু ২৬শে আমরা মমতা সরকার ও তৃণমূলকে সমূলে উৎপাটিত করে ফেলে দেবো। ২৬ শে বাংলায় সরকার গড়বে বিজেপি।
নেতাজি ইনডোরের সভা শেষ করে অমিত শাহ সরাসরি যান কলকাতার শিমলা স্ট্রিটে বিবেকানন্দের বাড়িতে। সেখানে কোন রাজনৈতিক কথাবার্তা হয়নি বলেই জানা যায়।

Be the first to comment