‘অপরাধীদের মাথায় সরকারের হাত’, কসবা গণধর্ষণকাণ্ডে প্রতিক্রিয়া আরজি করের নির্যাতিতার মা বাবার

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- কসবা গণধর্ষণ-কাণ্ড নিয়ে এবার মুখ খুললেন আরজি করে নির্যাতিতা ছাত্রীর বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, অপরাধীদের মাথায় সরকারের হাত আছে।
শুক্রবার সোদপুরের বাড়িতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আরজি করে নির্যাতিতা ছাত্রীর মা বলেন, “পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। কসবা গণধর্ষণের ঘটনা আমাদের কাছে লজ্জার। একসময় পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সবাই গর্ব করতেন। বিদেশেও সুনাম ছিল। এখন শিক্ষা ব্যবস্থা তলানিতে এসে ঠেকেছে। এমন ঘটনা বারবার ঘটায় রাজ‍্যের শিক্ষা ব্যবস্থা কলুষিত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের দুর্নাম আরও বাড়ছে। ”
আরজি করের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এনে নিহত চিকিৎসক ছাত্রীর মা বলেন, “আরজি কর হাসপাতালেও একই ঘটনা ঘটেছিল। আমার মেয়েকে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদে লড়াই-আন্দোলন সবকিছুই দেখেছিলেন রাজ‍্যের সাধারণ মানুষ। এত আন্দোলন হওয়ার পরেও লাভ কী হল? সেই তো অপরাধ ঘটেই চলেছে। অপরাধীদের মাথায় যদি সরকারের হাত থাকে তাহলে তো অপরাধের ঘটনা বাড়তেই থাকবে।”
এদিকে, কসবা গণধর্ষণ-কাণ্ডে যে তিনজন ধরা পড়েছে তার মধ্যে মনোজিৎ মিশ্র নামে এক অভিযুক্ত তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। বাকি দু’জন কসবা ‘ল কলেজ’এর আইনের ছাত্র। যদিও, গ্রেফতারের পরপরই অভিযুক্তদের থেকে দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা করেছে তৃণমূল। এ নিয়ে আরজি করের নির্যাতিতা ছাত্রীর মা বলেন, “এটাই তো নিয়ম। কোনও ঘটনা ঘটলেই শাসকদল দায় ঝেড়ে ফেলবে। আমি কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কথা বলছি না। এই অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। আমার মেয়ের মৃত্যুর এক বছর হতে চলল, অথচ আসল অপরাধীদের এখনও খুঁজে পাওয়া গেল না।”
তিনি আরও বলেন, “আসল অপরাধীদের সরকারি মদতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের মাথায় সরকারের হাত রয়েছে। এরকম ঘটনায় প্রভাবশালী তকমা বারবার ফিরে আসছে। থ্রেট কালচার কিংবা শাসকদলের দাপাদাপি এখনও বন্ধ হয়নি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।”
অন‍্যদিকে, সুর চড়িয়েছেন আরজি করের নির্যাতিতা ছাত্রীর বাবাও। তিনি বলেন, “যে তিনজন গ্রেফতার হয়েছে, তার মধ্যে টিএমসিপির এক নেতাও রয়েছে। ক্ষমতা এবং টাকার অপব্যবহার বেড়ে গিয়েছে। যার ফলেই এই সমস্ত ঘটনা ঘটছে বারবার। সরকারের নজরদারির অভাব রয়েছে। নজরদারির বদলে সরকার যেন অপরাধীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। আমার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশ প্রশাসন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এখনও সেটাই চলছে। আমরাও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। সরকার কিছুই করবে না। মানুষকেই বুঝে নিতে হবে। এটা আমরা ভালো করেই বুঝতে পেরেছি।”

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*