কসবাকাণ্ডে কল্যাণ মদনের বক্তব্য ব্যক্তিগত, দল সমর্থন করে না স্পষ্ট করল তৃণমূল

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:– কসবা ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে মুখ খুলে বিপাকে রাজ্যের শাসকদলের দুই হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধি! তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক মদন মিত্রের মন্তব্য তাঁদের একান্ত ‘ব্যক্তিগত’ বলে স্পষ্ট করে দিল দল। দুই নেতার মন্তব্যেরই কড়া নিন্দা করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। পাশাপাশি দোষীদের কড়া শাস্তির দাবিও জানিয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে কসবার ল’কলেজে গণধর্ষণের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। নির্যাতিতা দাবি করেন, বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে ডাকা হয়েছিল গার্ড রুমে। অভিযোগ, তিনি সেখানে গেলে তাঁর উপর চড়াও হন তিনজন। গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে ওই ছাত্রী কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “একজন ছাত্রীকে যদি তার সহপাঠীরা রেপ করে এর থেকে দুঃখের খবর আর কি হতে পারে।” এই মন্তব্য নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। সেই রেশ কাটার আগেই শনিবার ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁর কথায়, “কসবার এই ঘটনায় মেয়েদের কাছে, পড়ুয়াদের কাছে একটা বার্তা পৌঁছে গিয়েছে। যদি চেনা-পরিচিত কেউ ডাকে, যেদিন কলেজ বন্ধ, পরীক্ষা চলছে, ইউনিটের কিছু বানিয়ে দেবে, যেও না, ভালো হবে না। মেয়েটি ওখানে না গেলে এই ঘটনা ঘটত না। যদি যাওয়ার সময় কাউকে বলে যেত, ২ জন বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে যেত, তাহলে এই ঘটনা ঘটত না। যে এই নোংরা কাজ করেছে, সে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে।” তবে দোষীর কড়া শাস্তির আবেদনও করে কামারহাটির তৃণমূলের বিধায়ক বলেন, “আমাদের পার্টি এমন কাজকে কখনও রেয়াত করবে না।” স্বাভাবিকভাবে বিষয়টি ঘিরে শোরগোল শুরু হয়।
এরপরই দুই নেতার এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে তৃণমূল। দলের তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, ‘সাউথ কলকাতা ল’কলেজে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনা প্রসঙ্গে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক মদন মিত্র যে মন্তব্য করেছেন, তা তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত। দল তাঁদের বক্তব্যের সঙ্গে কোনোভাবেই একমত নয় এবং এই মন্তব্যগুলিকে কড়াভাবে নিন্দা করছে। এই ধরনের বক্তব্য কোনওভাবেই দলের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।’ একইসঙ্গে তাদের দাবি, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—মহিলাদের ওপর অপরাধের ক্ষেত্রে বরাবরই জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও করা হবে। যারা এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যেন কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*