রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য ওড়িশায় হেনস্তার স্বীকার হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা। সেই বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে ও বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থার আর্জি জানিয়ে ওড়িশার মুখ্যসচিব মনোজ আহুজাকে চিঠি লিখলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।
চিঠিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব লিখেছেন, শুধুমাত্র নিজেদের মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার জন্য যে ভাবে তাঁদের অন্যায় ভাবে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা দুঃখজনক। এই ধরনের ঘটনা শুধু অন্যায় এবং বৈষম্যমূলকই নয়, মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকারেরও পরিপন্থী। পন্থ আরও লিখেছেন, হয়রানির শিকার হওয়া ওই ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ রয়েছেন দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, কেউ আবার পরিচারকের কাজ করেন। কেউ কেউ আবার দীর্ঘদিন ধরে ওড়িশায় বাস করছেন। ওড়িশার কোথায় কোথায় এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, তা-ও ওই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন পন্থ। রাজ্যের মুখ্যসচিব লিখেছেন, পারাদ্বীপের আশপাশের এলাকা, জগৎসিংহপুর, কেন্দ্রাপড়া, ভদ্রক, মালকানগিরি, বালেশ্বর এবং কটকের মতো উপকূলীয় জেলাগুলিতে কোনও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের আটক করা হচ্ছে।
গত ২৫ জুন ওড়িশায় কাজ করতে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গের ১৬ জন শ্রমিককে আটক করে মোহন চরণ মাঝির রাজ্যের পুলিশ। ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে তাঁদের আটক করার খবর প্রকাশিত হয় এক বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমে। ওই শ্রমিকেরা পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা। প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ ওই শ্রমিকদের আত্মীয়পরিজন তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করতে পারেননি। ওড়িশার রেমুনা থানার পুলিশ তাঁদের আটক করে। তাঁরা এখনও ছাড়া পাননি। নলহাটির ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিস্থিতির কথা মুখ্যসচিব পন্থের নজরেও আসে। তাঁদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে বাংলার সরকার।


Be the first to comment