সমাজমাধ্যম পোস্টে উস্কানি ও বিভ্রান্তি আটকাতে ‘কঠোর আইন’ আনার দাবিতে ‘শাহ’কে চিঠি মমতার

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- সাইবার অপরাধ এবং সমাজমাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে কড়া আইনের প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার লিখিত ভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাইবার অপরাধ ক্রমশ বাড়ছে। তাতে আর্থিক লোকসান হচ্ছে বহু মানুষের। এমনকি, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো খবর এবং তথ্য সামাজিক বাঁধুনি দুর্বল করছে। এর ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেমন ধাক্কা খাচ্ছে, তেমনই মহিলাদের উপরে অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে। তাই কড়া আইন, ডিজিটাল শিক্ষা প্রসার এবং সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিগত কিছু দিন ধরে রাজনৈতিক ভাবে শাহকে নিশানা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বদলে তিনিই দেশ চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা। সে দিক থেকে শাহকে এ দিনের পত্রবার্তা অর্থবহ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নবান্ন সূত্রের দাবি, সরকারি তরফে এই চিঠি পুরোপুরি প্রশাসনিক।
সম্প্রতি সাইবার জালিয়াতদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে আকছার। কখনও আর্থিকভাবে প্রতারিত, কখনও আবার সামাজিক সম্মানহানি কিংবা প্রেমের হাতছানি দিয়ে বিভিন্ন বয়সি মহিলা-পুরুষকে প্রতারণা। সাইবার থানায় ভুয়ো ভুয়ো এমন অভিযোগ জমা পড়েছে। সেসব কানে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীরও। তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এছাড়া কোনও ঘটনা নিয়েও সোশাল মিডিয়ায় যা প্রচার চলছে, অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, তা ঘটনা বহির্ভূত, অতিরঞ্জিত। সম্প্রতি রাজ্যে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনায় এ ধরনের সোশাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে সতর্ক করতে হয়েছে পুলিশকেও। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকেন না, সেই কারণেই এধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাই সচেতনতা প্রচারও দরকার বলে মনে করছেন তিনি।
এদিনের চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, আমি আমাদের জাতির জনশান্তি ও সামাজিক কাঠামোর জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকিস্বরূপ একটি গুরুতর সমস্যা সম্পর্কে আমার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে লিখছি—কিছু সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে উত্তেজক বিষয়বস্তুর বিস্তার ও সাইবার অপরাধের ভয়াবহ বৃদ্ধি। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য, ভুল তথ্যপূর্ণ গল্প এবং জাল ভিডিও সমাজের কিছু অংশে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারের তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক প্রভাব এই সমস্যাগুলিকে বহুগুণে বৃদ্ধি করে। এছাড়াও, সাইবার অপরাধের জটিলতা ও এর ক্ষতিকর প্রভাব উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে।আর্থিক প্রতারণা ও পরিচয় চুরি থেকে শুরু করে অনলাইন হয়রানি ও মানহানি পর্যন্ত—সাইবার অপরাধ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলির উপর গভীর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।
চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ডিজিটাল সাক্ষরতা অভিযান এবং সম্প্রদায় সম্পৃক্ততা উদ্যোগ জোরদারভাবে বাস্তবায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে নাগরিকরা অনলাইন তথ্য সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়ন করতে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দ্রুত রিপোর্ট করতে সক্ষম হয়।
জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক সংহতি এবং আমাদের নাগরিকদের কল্যাণের উপর এর গভীর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে, এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে আমি কৃতজ্ঞ হব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বৃহস্পতিবার লেখা চিঠিতে তাঁর আবেদন, এসব রুখতে কঠোরতম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তেমন হলে আইনসভা এতে হস্তক্ষেপ করুক। নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে নতুন আইন প্রণয়ন হোক কিংবা যেসব আইন রয়েছে, তার সংশোধন করার আবেদন জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

 

 

 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*