পিয়ালি, কলকাতা:-
‘স্কুলের ব্যাগটা বড্ড ভারী,
আমরা কি আর বইতে পারি?
এও কি একটা শাস্তি নয়?
কষ্ট হয় ,কষ্ট হয়’…..
আমাদের কলেজ জীবনের এই গান তখনো বাস্তব ছিল এখনো সময়োপযোগী। বলা যায় চিরকালীন এই গান। সুমন চট্টোপাধ্যায় ওরফে কবীর সুমনের গান এটি। যে কবীর সুমন আমাদের যৌবনকে নাড়িয়ে দিয়ে গেয়েছিলেন ‘প্রথমত : আমি তোমাকে চাই দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই শেষ পর্যন্ত আমি তোমাকে চাই’ গান। আবার অপত্য স্নেহে গেয়েছিলেন ‘তুই হেসে উঠেলেই সূর্য লজ্জা পায়/আলোর মুকুট খানা তোকেই পরাতে চায়।/তুই হাততালি দিলে জাকির হোসেন/তবলা বাজানো ছেড়ে পায়রা পোষেণ’। ঠিক তেমনি পড়ুয়াদের মনস্তত্ত্ব বুঝে তাঁর গান ‘স্কুলের ব্যাগটা বড্ড ভারী’।
আজ এতদিন পরে এই প্রসঙ্গের অবতারণা এই কারণে যে একটি নোটিস পড়লাম। লা মাটিনিয়ার ফর গার্লস ২১ শে জুলাই ২০২৫ থেকে নিতে চলেছে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

ভারি স্কুল ব্যাগ থেকে বাচ্চাদের কষ্ট এবং তাদের শরীর খারাপ হতে পারে এই ভেবে ব্যাগ হালকা করল স্কুল। আই সি এস সি বোর্ডের এই স্কুলে শুধু ফার্স্ট ল্যাঙ্গুয়েজ অর্থাৎ ইংরেজি এবং সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ এর পাঠ্য বই ছাড়া কোন বই ব্যাগে নিয়ে যেতে হবে না। এই দুটি বই ছাড়া স্কুলব্যাগে থাকবে শুধু খাতা ও পেন পেন্সিল।
তবে পড়াশোনা কিভাবে হবে ? নোটিসে তারও উল্লেখ আছে। সমস্ত বিষয়ে এখন থেকে স্কুলে পড়ানো হবে এলইডি স্ক্রিনে। ক্লাসে টিচাররা পুরো পড়াটাই করিয়ে দেবেন। আমি এই সিদ্ধান্ত শুনে মুগ্ধ। আমার সঙ্গে স্কুলের অন্য অভিভাবকদের কথা হয়েছে। তারাও উচ্ছ্বসিত। প্রধানত অনেক অভিভাবকের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত।প্রথমে ছাত্রীদের ট্যাব দেওয়া হবে ভাবা হয়েছিল। পরে এই অসাধারণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।তবে অনেকের মনে কিছু প্রশ্ন আছে। সেগুলি আশা করি স্কুল কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে বুঝিয়ে বলবেন। রাজ্যের অনেক স্কুলেই স্কুল ব্যাগ হালকা করে স্কুলেই বই রাখার পদ্ধতি আছে। লা মাটিনিয়ার স্কুলের মেয়েদের আজ সেই বোঝা হালকা হলো। কলকাতার লা মার্টিনিয়ার স্কুলের এই সিদ্ধান্ত দৃষ্টান্ত স্বরূপ। স্কুল কর্তৃপক্ষ এর জন্য বিশেষ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কবীর সুমনের লাইন দিয়ে শেষ করছি। ‘স্বপ্ন দেখার গল্প আছে/কোথায় রাস্তা কোথায় যাবো?/কোথায় গেলে শুনতে পাবো/একটু পড়া, অনেক খেলা/গল্প শোনা সন্ধ্যেবেলা/রাতের হাওয়ায় বুকের কাছে’….

Be the first to comment