পিয়ালী :
নফরত কে বাজার মে মহব্বত কি দুকান। কথাটা কংগ্রেস নেতা রাহুল (Rahul gandhi) গান্ধীর। ভারত জোড়ো যাত্রা সময় এই স্লোগানটি খুব জনপ্রিয় হয়। বিভিন্ন সভা সমিতিতে রাহুল এই কথা বলতেন। বিশেষ করে বিজেপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর এই বক্তব্য বা স্লোগান মানুষের মনে দাগ কাটে। তাঁর যাত্রাপথে বিজেপি কর্মীরা বাধা দিলে বা ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখালে তিনি তাঁদের দিকে ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দিতেন। বলতেন, আপকা বাজার নফরত কি, মেরা দুকান মহব্বত কি। বিজেপি নেতাকর্মীদের রাহুল আহ্বান জানাতেন, আপনারাও নফরতের বাজারে মহব্বতের দোকান খুলুন। এই প্রসঙ্গের অবতারণা এখন কেন করছি তা একটু খোলসা করে বলি। সম্প্রতি বিহারে ভোটার অধিকার যাত্রা করলেন রাহুল। সেই সময় বিহারের সাধারণ গ্রামীণ মেয়েদের সঙ্গে আলাপচারিতায় আবার চেনা রাহুলের দেখা মিলল।
ছোট ছোট মেয়েরা তাদের মনের কথা বলছে। ছোট বলতে বেশিরভাগেরই বয়স ২৫-২৬ এর নিচে। একটি অল্পবয়সি মেয়ে বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটিতে পাঠরতা। তিনি রাহুলকে নাম ধরে সম্মোধন করেন। খুবই সাবলীল মেয়েটি। রাহুলও বলেন মেয়েটির এই রাহুল ডাক খুবই পছন্দের তাঁর।
মহিলা মহলে রাহুল এমনিতেই খুব জনপ্রিয়। তাঁর বাবা রাজীব গান্ধীর মত তিনিও বিশ্বাস করেন, দেশের অগ্রগতি করতে হলে মহিলাদের অগ্রগতি বা উন্নয়ন করা সবার আগে জরুরি। মহিলা স্বশক্তিকরণ তাঁর অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। যাই হোক প্রসঙ্গে ফিরে আসি। বিহারের ওই ছোট্ট গ্রামের মেয়েরা তাদের নানা অসুবিধার কথা অকপটে রাহুলকে বলছিলেন। যেমন স্কুল-কলেজে মেয়েদের টয়লেট যথেষ্ট না থাকার অভিযোগ করলেন বিহারের এই কিশোরী তরুণীরা।
স্পষ্টই রাহুলকে এই মেয়েরা বললেন, সরকারের উচিত ফ্রিতে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া স্কুলে অথবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। একটি মেয়ে তো বলল ছেলেরা যেখানে খুশি টয়লেট করতে পারে। কিন্তু মেয়েরা তো রাস্তায় টয়লেট করতে পারবে না। সুতরাং যাত্রাপথে রাস্তায় লেডিস টয়লেট থাকা খুবই জরুরি।
বিহারের এই রমণীরা অনেকেই নীতীশ কুমার-কে দোষারোপ করলেন। বললেন শিক্ষা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে একেবারেই ব্যর্থ তিনি। একজন তো বলে বসলেন গ্রামের মুখিয়া আমাদের কথা বলতে দেয় না, রাহুল তাকে পরামর্শ দেন আপনি মুখিয়া হয়ে যান।
একটি মেয়ে বলল সে টুয়েলভে পড়ছে। ডাক্তারি পড়তে চায়। নিট পরীক্ষায় বসতে চায়। কিন্তু সরকারি কলেজে এমবিবিএস এর সিট সীমিত। প্রাইভেটে পড়ার সামর্থ্য নেই। সে চায় নীতীশ সরকার বা কেন্দ্রে বিজেপি সরকার পরিবর্তন করে নতুন সরকার। যে সরকার মেডিকেলে আসন সংখ্যা বাড়াবে। সরকারি কলেজে অল্প খরচায় এমবিবিএস পড়ার সুযোগ মিলবে।
এইরকমই কথায় কথায় ঘন্টাখানেক কেটে যায়। হঠাৎই এক মহিলা বলেন, তিনি নীতীশ কুমারকে ঘৃণা করেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করেন রাহুল, বলেন আপনার পছন্দ নয় আপনার ভোটাধিকার আছে। মহিলা বলেন না নেই। ভোটার তালিকায় নাম তোলার সময় ঘুষ চান ভোট কর্মীরা। তার কাছে সেই টাকা না থাকায় নাম ওঠেনি। বিহারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ জানান তারা। বলেন এখানে ধর্ষণ শ্লীলতাহানি হয় বেশি। নারীদের ওপর অত্যাচারের হার খুবই বেশি।

রাহুল মন দিয়ে শোনেন তাদের কথা। তাদের সঙ্গে খাবার শেয়ার করেন এবং প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা ছবিও তোলেন। কিন্তু তার ওই যে কথা কোন ব্যক্তির প্রতি ঘৃণা নয় নীতীশের প্রতি ঘৃণা নয় এই কথা মনে করিয়ে দেয় তাঁর স্লোগান নফরতকে বাজার মে মহব্বত কি দুকান।
বর্তমান রাজনীতিতে কাদা ছোড়াছুড়ি খিস্তিখেউড় যখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার, যখন কেউ বলেন তোর মা বউকে রেপ করব তখন এই সৌজন্য রাহুলকে নিশ্চয়ই অন্য মাত্রা দেয়। এটা তাকেই মানায়। ভুলে যাওয়া উচিত নয় রাহুলের প্রয়াত পিতা রাজীব গান্ধী তৎকালীন লোকসভার বিরোধী নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী-কে কমিটির মিটিংয়ে আমেরিকায় যাওয়ার বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন। কারণ রাজীব গান্ধী শুনেছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী অসুস্থ তাঁর আমেরিকায় চিকিৎসার প্রয়োজন। এই উপকারের কথা অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও বারবার উল্লেখ করেছেন।
এটাই তো রাজনীতির আদর্শ হওয়া উচিত। মানুষের কাজ করতে এসে যদি আলাদা দল বলে কোন মানুষকে অপমান করা হয় তবে রাজনীতি থেকে নীতি বাদ হয়ে যায়। এই কথা সব দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

Be the first to comment