রোজদিন ডেস্ক : তাঁর বিরুদ্ধে দুজন শিক্ষিকাকে নিগ্রহের অভিযোগ সামনে এসেছে। জলপাইগুড়ির সুনীতিবালা সদর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাস-কে কান ধরে ওঠবোস করিয়েছিলেন এই জেলার নব নিযুক্ত পুরপ্রধান সৈকত চ্যাটার্জি !! সহকারী প্রধান শিক্ষিকাকে বাধ্য করেছিলেন তাঁর পা ধরে বসে থাকতে !! এমন “বীরপুরুষ “(!) এর এই সব কাণ্ডকারখানা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সূত্রের খবর, নিগৃহীতা প্রধান শিক্ষিকা স্বীকারও করেছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তাঁদের দুজনকে এই রকম চরম অপদস্থ করেছিলেন সৈকত চ্যাটার্জি। পুরো ঘটনা তিনি শিক্ষা দফতরকেও জানিয়েছিলেন। যদিও এখন অবধি কোন সুরাহা হয়নি। পরে তিনি আদালতে গেছেন।কিছু দিনের মধ্যে এই মামলা জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে ওঠার কথা। তিনি ও সহকারী প্রধান শিক্ষিকা অরুণিমা মিত্র-কে অনৈতিক কাজে বাধ্য করাতে চেয়েছিলেন এই পুর প্রধান, এমনটাই অভিযোগ তাঁদের। তাঁরা রাজি না হওয়ার মাশুল দিতে হয়েছিল এই ভাবে। না হলে মিড ডে মিল সহ অন্যান্য বিষয়ে তাঁদের ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
অভিযুক্ত পুরপ্রধান সৈকত চ্যাটার্জি অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে দুই শিক্ষিকাকে হেনস্থার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি অভিষেক ব্যানার্জির অনুগামী। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তোপ দেগে তিনি বলেন, উনি উন্মাদের মত আচরণ করছেন।এই ভিডিও তাঁর নয়। এআই দিয়ে বানানো হয়েছে।
সমাজমাধ্যমে শুভেন্দুবাবু নতুন পুরপ্রধানকে তীব্র কটাক্ষে বিঁধে জানান, দুই শ্রদ্ধেয় শিক্ষিকাকে অপদস্থ করার পুরস্কার পেলেন উনি! এই ছাড়া সৈকত বাবুর বিরুদ্ধে আরও যে সব অভিযোগ আছে তাও বিশদে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, জলপাইগুড়ির যুব নেতা সৈকত চ্যাটার্জি র বিরুদ্ধে ওখানকার আইনজীবী সুবোধ ভট্টাচার্য ও তাঁর স্ত্রী অপর্ণা ভট্টাচার্য-কে আত্মঘাতী হওয়ার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে তোলপাড় উঠে ছিল। বেশ কিছুদিন গা ঢাকাও দিয়ে ছিলেন তিনি। পরে এই মামলায় গ্রেফতার কয়েকদিন জেলেও ছিলেন। দল তখন তাঁর থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও পরে ফের তিনি জলপাইগুড়ি পুরসভার উপ-প্রধান হন। এখন তাঁকেই পুর প্রধান করেছে দল।
এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। পুরপ্রধান পদে শপথ নেওয়ার আগে সৈকত চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে এই সব গুরুতর অভিযোগ নিয়ে অনেক এলাকাবাসীই ক্ষুব্ধ। যদিও শাসকদলের রক্তচক্ষুর আতঙ্কে অনেকেই মুখ খুলতে নারাজ। এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক টি এম সি ও।

Be the first to comment