বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড দিল ট্রাইবুনাল

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : 
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল মানবতা বিরোধী মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলো। আজ টানটান উত্তেজনার আবহে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এই রায় ঘোষণা করা হয়। এই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া প্রাক্তন আই জি পি আবদুল্লাহ আল মামুনের পাঁচ বছর কারাদণ্ডও দিয়েছে ট্রাইবুনাল।
গত কয়েকদিন ধরেই এই রায় ঘোষণা নিয়ে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়েছে বাংলাদেশ। বিক্ষিপ্তভাবে যানবাহনে আগুন দেওয়া সহ একাধিক হিংসাত্মক ঘটনা হয়। অভিযোগের তির আওয়ামী লিগের দিকে। আজ রায় ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। ভারত সরকার পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছে। রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি, টহলদারি কঠোর করা হয়েছে বলে জানা যায়।
গত বছর বাংলাদেশে ব্যাপক আন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে আছেন।
আজ এই রায় হাস্যকর, অসত্য বলে তাঁর পক্ষে জানানো হয়।
একে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট, মৌলবাদীদের ইচ্ছেতেই এই রায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা র বিরুদ্ধে চলা এই মামলাকে প্রথম থেকেই ক্যাঙারু কোর্টের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লিগ নেতারা। আজ রায় ঘোষণার পর কার্যত গর্জে উঠেছেন তাঁরা।দলের পক্ষে জাহাঙ্গীর কবির নানক এই রায়ের তীব্র প্রতিবাদ করে সমাজমাধ্যমে জানান, অবৈধ আদালতের এই রায় বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁরা এই রায় মানেন না, মানবেন ও না।
এই মামলায় ৮৪ জন সাক্ষীকে সামনে রেখে ৫৪ জনকে হাজির করা হয়। মাত্র ২০ দিন আদালতে শুনানি চলে বলে তিনি জানান।
আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল – ১ এর এই রায়ের দিকে ভারত সহ সারা বিশ্বের নজর ছিল। চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন এই ট্রাইবুনালের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি শফিউল আলম আমহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আজ তাঁরা জানান, শেখ হাসিনা-সহ তিজজনের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, আর একটি অভিযোগে দেওয়া হয়েছে আমৃত্যু কারাদণ্ড। প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এই ট্রাইবুনাল।
শেখ হাসিনা ও কামালকে পলাতক দেখিয়ে তাঁদের পক্ষে বাংলাদেশ সরকার নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন আমির হোসেন। গত বছর ১৪ জুলাই গণভবনে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের রাজাকারের বাচ্চা, রাজাকারের নাতিপুতি বলে কটাক্ষ করেছিলেন শেখ হাসিনা। এর প্রেক্ষিতে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, প্রাক্তন পুলিশ প্রধান সহ অন্যরা নিরীহ পড়ুয়াদের ওপর যথেচ্ছ আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। এতে দেড় হাজার জন নিহত ও ২৫ হাজার জন আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ছাড়া আওয়ামী লিগের সদস্য, সমর্থকরাও ব্যাপক অত্যাচার করে বলে নালিশ জানানো হয়েছে।
এই সব ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষমতা চ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনাল গঠন করে মামলা শুরু হয়, আজ সেই রায় ঘোষণা করা হয়।
যা কেন্দ্র করে ফের ব্যাপক গোলমাল শুরু হয়েছে বাংলাদেশে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*