রোজদিন ডেস্ক : প্রায় প্রতিটি স্তম্ভের গোড়ায় দীর্ঘদিন ধরে জমছে বৃষ্টির জল। এর ফলে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উড়ালপুল। ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে গোটা পুলটি। উড়ালপুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে কেএমডিএ-র নজরে পড়েছে এই অবস্থা। তাঁদের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিলম্বে উড়ালপুলের সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার করা গেলে আরও ৪০-৪৫ বছর টিঁকবে এই উড়ালপুল। কিন্তু এরজন্য উড়ালপুলের নীচে থাকা দোকান সরানো এবং পুলের ওপর যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে কয়েকদিন। তারজন্য কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার সম্মতি ও সহযোগিতা প্রয়োজন। অবশেষে তা মিলেছে। তারপরই উড়ালপুল সংস্কারের প্রস্তুতি শুরু করল কেএমডিএ। প্রায় দু’মাস ধরে পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে উড়ালপুলের প্রতিটি স্তম্ভে দীর্ঘদিন বৃষ্টির জল জমে বেশ ভালোই ক্ষতি হয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় স্তম্ভের গঠন ফুলে উঠেছে।ইঞ্জিনিয়ারদের প্রস্তাব, প্রতিটি স্তম্ভকে মাটির তলা থেকে উপর পর্যন্ত কার্বন ফাইবার বা স্টিল প্লেট দিয়ে মোড়া হবে ও সেতুর নীচের অংশে পলিমার ফাইবারের আস্তরণ বসানো হবে। এতে স্তম্ভের গঠনগত শক্তি অনেকটাই বাড়বে। বহু বছর ট্রাম চলাচল করত এই ব্রিজে। যদিও অনেকদিনই তা। কিন্তু রয়ে গিয়েছে ট্রাম লাইন। লাইনের অতিরিক্ত কংক্রিট স্তরও ওজন বাড়িয়েছে পুলের। এই উড়ালপুলের নীচে প্রায় ৩৫০-৪০০টি স্টল রয়েছে। প্রথম দফায় প্রায় ৫০-৬০টি স্টল অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলতে হবে। এই অবস্থায় পুরসভার সাহায্য চাওয়া হয়েছে। ৪৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মোনালিসা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে। গোটা কাজটি চলবে রাতের দিকে। সময় লাগবে ১২-১৫ দিন। ওই সময়ে বিকল্প কোন পথে যান চলাচল করবে, সেটা কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগ আলোচনা করে চূড়ান্ত করবে।

Be the first to comment