সুস্মিতা রায় :
তাঁর শেষ কথা ছিল, “ওপরে এসো না, আমি ওদের সামলাবো”, তিনি সামলেছিলেন ঠিকই, একা লড়ে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন মহিলা-সহ জঙ্গিদের হাতে আটক পণবন্দিদের। কাপুরুষের মত পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিরা তাঁকে পিছন থেকে গুলি করে, সেই আঘাত আর সামলাতে পারেননি এনএসজি-র এই অসমসাহসী কম্যান্ডো, মাত্র ৩১ বছর বয়েসে মুম্বাইয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় গুরুতর আহত মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণন-এর দু-দিন পর ২৮ নভেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান। আজ সতেরো বছর পরও যাঁর সাহসিক বীরত্বের স্মৃতি আমজনতার মনে এখনও অম্লান। জঙ্গিরা একের পর এক গুলি ছুঁড়ে তাঁকে গুরুতরভাবে জখম করলেও পিছু হঠেননি তিনি, জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করে মুম্বাই-এর অভিজাত তাজ হোটেলের দেড়শো জন পণবন্দির প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণন, তাঁর এই অসমসাহসিকতার গাথা এখন কিংবদন্তি হয়ে আছে।

পিতা মাতার এক মাত্র মেধাবী সন্তান বেছে নিয়েছিলেন কঠোর দেশ রক্ষার কাজ, এনএসজি-র বিশেষ অ্যাকশন গ্রুপে কর্মরত এই তরুণ সেনানী ভয় কাকে বলে জানতেন না। শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী তাজমহল প্যালেস হোটেলে ভয়াবহ জঙ্গি আক্রমণ মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা নেন তিনি। তাঁর সহকর্মী সুনীল যাদবকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিরাপদে বার করে একাই জঙ্গি মোকাবিলায় এগিয়ে যান৷
অমর এই তরুণ শহিদকে ২০০৯ সালের ২৬ জানুয়ারি দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান অশোক চক্রে মরণোত্তর ভূষিত করা হয়।
লাখো কুর্ণিশ দিয়েও বুঝি শ্রদ্ধা সম্মান জানানো যায় না এই অমর শহিদকে। একমাত্র কৃতী সন্তানকে হারিয়ে যাঁরা বাবা মার শুধু অশ্রুই সম্বল ছিল।

Be the first to comment