দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন ছাড়বে হাওড়া থেকে, জেনে নিন ভাড়া থেকে ট্রেনের খুঁটিনাটি

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : ভারতীয় রেলের ইতিহাসে স্মরণীয় দিন। চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে ভারতীয় রেলের গর্ব বন্দে ভারত এক্সপ্রসের স্লিপার কোচের যাত্রা। এর আগে দেশের একাধিক রাজ্যে চালু হয়েছে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের চেয়ারকার। শুরু হতেই যাত্রীদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই পরিষেবা। সেই ধারা বজায় রেখে এবার আসছে একশো শতাংশ আন্তর্জাতিক মানের বিলাসবহুল বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। আর মোদি সরকারের দৌলতে দেশের প্রথম এই ট্রেনটি পাচ্ছে আমাদের রাজ্য তা এরমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। হাওড়া থেকে গুয়াহাটি রুটেই চলবে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। এতে একদিকে যেমন অসম-সহ উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে যাতায়াতের সময় কমবে, তেমনি বিশ্বমানের ট্রেন যাত্রার অভিজ্ঞতাও মিলবে। এই মাসেই এই রেলযাত্রার সূচনা করতে রাজ্যে আসছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ট্রেনে কী কী সুযোগ, সুবিধা থাকছে, ভাড়া কত হবে, এই নিয়ে আম জনতার মনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার দেখা যাক বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে।

আরামদায়ক বার্থ: থাকছে আধুনিক আরামদায়ক শোয়ার বার্থ। পাশাপাশি থাকা বার্থগুলোতে দেওয়া হয়েছে উন্নতমানের কুশনিং, যা দীর্ঘ যাত্রায় দেবে আরামে ঘুমের অভিজ্ঞতা।

অ্যাডজাস্টেবল উইন্ডো: বিমানে যেমন জানালার পর্দা ওঠানামা করে, বন্দে ভারত স্লিপারেও থাকছে সেই কায়দার অ্যাডজাস্টেবল উইন্ডো শেডস।

ব্রেইল সিট নাম্বার: দৃষ্টিহীনদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে এই ট্রেনে। এই প্রথম ভারতীয় রেলে প্রতিটি সিটকে চিহ্নিত করার জন্য ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। ব্রেইল পদ্ধতিতে থাকছে সিট নাম্বার। এর ফলে দৃষ্টিহীন যাত্রীরা কারও সাহায্য ছাড়াই তাঁদের আসন খুঁজে নিতে পারবেন।

যাত্রী সুরক্ষায় কবচ: সুরক্ষার সঙ্গে আপোস নয়। সেই লক্ষ্যে ট্রেনে থাকছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা বা কবচ।

ইমারজেন্সি টক ব্যাক: আপতকালীন পরিস্থিতির জন্য থাকছে ইমারজেন্সি টক-ব্যাক সিস্টেম। যার মাধ্যমে যাত্রীরা সরাসরি চালকের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।

ডিপ ওয়াশ বেসিন: ট্রেনের টয়লেট এবং ওয়াশ বেসিন ব্যবহারের সময় যাতে জল জামাকাপড়ে না লাগে তার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ধরনের ডিপ ওয়াশ বেসিন।

ডিসইনফেক্ট্যান্ট ক্লিনিং: স্বাস্থ্যবিধি মেনে টয়লেট থেকে বেসিনের পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এই ট্রেনে থাকছে ডিসইনফেক্ট্যান্ট প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ক্লিনিং সিস্টেম।

এয়ারকন্ডিশন: ১৬ কোচের ট্রেনটি পুরোটাই এয়ার কন্ডিশন। ট্রেনে রয়েছে ১১টি থ্রি-টিয়ার এসি কোচ, ৪টি টু-টিয়ার এসি কোচ এবং ১টি ফার্স্ট ক্লাস এসি কোচ। এছাড়া খাবারদাবার সরবরাহ করার জন্য থাকছে প্যান্ট্রি কার।

ভাড়া: মধ্যবিত্ত শ্রেণির সাধ্যের কথা মাথায় রেখে স্লিপার ট্রেনের ভাড়াও রাখা হয়েছে নাগালের মধ্যে। খাবার খরচ-সহ হাওড়া থেকে গুয়াহাটি এসি থ্রি-টিয়ার কোচে একটি বার্থের ভাড়া প্রায় ২,৩০০ টাকা। তবে এটা চূড়ান্ত নয়। কিছু পরিবর্তন হতে পারে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*