ওড়িশায় পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে আতঙ্কে নদিয়ার পরিযায়ী শ্রমিক পরিবার

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া : নদিয়ার শান্তিপুর এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর ওড়িশায় পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগকে ঘিরে চরম উদ্বেগে দিন কাটছে তাঁদের পরিবারগুলির। প্রায় ১৫ বছর ধরে উড়িষ্যার ভঞ্জনগর এলাকায় হকারির কাজ করে আসছেন শান্তিপুর থানার ঘোড়ালিয়া মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুজয় পাল। অভিযোগ, গত ছয় মাস ধরে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা পুলিশের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

পরিবারের দাবি, হঠাৎ করেই পুলিশ এসে বাড়ির দরজায় লাথি মেরে ভেতরে ঢুকে শ্রমিকদের আটক করে নিয়ে যায়। তাদের ‘বাংলাদেশি রোহিঙ্গা’ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে কয়েকজন সহকর্মী জেল হেফাজতে রয়েছেন। এই ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন বাকি শ্রমিকরা ও তাঁদের পরিবার।

পরিবারের আর্তি: নিরাপত্তা চাই, ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা চাই

সুজয় পালের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাইরে কাজ করেই সংসার চলে। এখন যদি নিরাপত্তাই না থাকে, তবে কাজ করাও অসম্ভব হয়ে উঠছে। তাঁদের দাবি, রাজ্য পুলিশ যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ওড়িশার পুলিশের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং নিরাপদে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে।

এক পরিবারের সদস্য বলেন, “আমাদের ছেলেরা অপরাধী নয়। তারা শুধু রোজগারের জন্য বাইরে কাজ করে। অথচ এখন ভিনরাজ্যে গিয়ে অপমান আর ভয়ে থাকতে হচ্ছে।”

বিজেপির বক্তব্য: পরিচয়পত্র থাকলে পাশে দাঁড়াব

এই বিষয়ে বিজেপির নির্বাচনী কনভেনার সুব্রত পাল বলেন, রাজ্যে বিপুল পরিমাণ পরিযায়ী শ্রমিক তৈরির জন্য শাসক দলই দায়ী। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক গুজবও ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি জানান, “যদি তাঁদের কাছে সঠিক পরিচয়পত্র থাকে, তাহলে আমরা ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করব।”

তৃণমূলের পাল্টা কটাক্ষ

অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্যকে কটাক্ষ করেছে শাসক দল। নদিয়া দক্ষিণ আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি সনৎ চক্রবর্তী বলেন, “যে রাজ্যগুলোতে ডবল ইঞ্জিন সরকার রয়েছে, সেখানেই সাধারণ মানুষ ও বিশেষ করে বাঙালিরা বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বিজেপি জানে বাংলায় তাদের পরাজয় নিশ্চিত, তাই ভিনরাজ্যে বেছে বেছে বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং শাসক দল শ্রমিকদের পাশে থাকবে।

বাড়ছে উদ্বেগ, প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে পরিবার

এই ঘটনার জেরে শান্তিপুর ও আশপাশের এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারগুলির মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে গেলে তাঁদেরও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে।

এদিকে পরিবারগুলির একটাই দাবি—রাজ্য সরকার ও প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিক, যাতে ওড়িশা-তে কর্মরত বাংলার শ্রমিকরা নিরাপদে কাজ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন।

এই মুহূর্তে প্রশাসনের ভূমিকার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আতঙ্কিত শ্রমিক পরিবারগুলি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*