রোজদিন ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার প্রথমদিন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তিনিই ছিলেন তৃণমূলের সর্বেসর্বা। উত্তর থেকে দক্ষিণ, সংগঠনের সবই সামলাতেন মুকুল রায়। তাঁকে বলা হত তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’। তাঁর চলে যাওয়া বঙ্গ রাজনীতিতে একটা যুগের অবসান। সোমবার সেই প্রয়াত মুকুল রায়কে বিধানসভায় নিয়মমাফিক শ্রদ্ধা জানানোই শুধু নয়, কাঁচরাপাড়ায় বীজপুরের বাড়িতেও গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে হালিশহরের মহাশ্মশানে শেষকৃত্য পর্যন্ত সঙ্গে রইলেন তিনি। গাড়িতে নয়, রীতিমতো শোকমিছিল করে হাঁটলেন অভিষেক। মুকুল পুত্র শুভ্রাংশুকে বড় দাদার মতো আগলে রাখলেন। সঙ্গে তখন সাংসদ পার্থ ভৌমিক, সনৎ দে, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, নির্মল ঘোষ, রফিকুর রহমান, সোমনাথ শ্যাম সহ অন্যরা। এদিন অভিষেক যখন বীজপুরের বাড়িতে পৌঁছলেন, তার আগে থেকেই ভিড়ে থিকথিক করছে গোটা এলাকা। স্থানীয় নেতৃত্ব তো বটেই, সাধারণ মানুষও ভেঙে পড়েছেন প্রিয় মুকুলদাকে শেষবারের মতো একবার দেখতে। অভিষেক মুকুল রায়ের মরদেহে মালা দেওয়ার পর বাড়ির ভেতরে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। সকলকে সান্ত্বনা দেন। শ্মশানে যখন শেষকৃত্যের প্রস্তুতি চলছে, মুকুল রায়ের নশ্বর দেহ শোয়ানো রয়েছে বেদির ওপর, তখনও সেখানে ঠায় দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চোখের দৃষ্টিতে শূন্যতা। অবশেষে তৃণমূলের একসময়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়কে শেষ বিদায় জানালেন তৃণমূলের বর্তমান সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। চোখের জলে সকলে বিদায় জানালেন বঙ্গ রাজনীতির একসময়ের চাণক্য মুকুল রায়কে।

Be the first to comment