রোজদিন ডেস্ক : রাজ্যে পুনর্জাগরণের পক্ষে সওয়াল করলেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা। আজ প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করে এক আলোচনা সভায় প্রাক্তন আমলা জহর সরকার, অনিতা অগ্নিহোত্রী, চিকিৎসক অরুণ সিং, অর্থনীতিবিদ রতন খাসনবিশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যে দুর্নীতি, গণতন্ত্র রক্ষা, নারীর অধিকার, অপশাসন ইত্যাদি নিয়ে তাঁরা সরব হন।
আলোচনা সভার অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন প্রাক্তন আমলা জহর সরকার। চাঁছাছোলা ভাষায় তিনি বলেন, এখন প্রশাসনিক দুরবস্থা কাকে বলে তা দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় আমলা মহলে এই রাজ্যের আধিকারিকদের কার্যত দূরবিন দিয়ে দেখার মত অবস্থা। কেন্দ্রর সঙ্গে রাজ্যের সব বিষয়েই সংঘাত! পাশাপাশি প্রচন্ড দুর্নীতি দেখা যাচ্ছে। প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে এমন দুর্নীতি হয় না। পঞ্চায়েতে টাকা পড়ে থাকে খরচ হয় না। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শোচনীয়। এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবাদ প্রয়োজন।
বিশিষ্ট চিকিৎসক অরুণ সিং বলেন, এক সময় এই রাজ্য শিল্প, সংস্কৃতিতে এগিয়ে ছিল। যে বাংলায় “আমার নাম তোমার নাম, ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম” শোনা যেত, সেই বাংলার পুনরুত্থান করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এখন পণ্য হয়ে গেছে।
প্রাক্তন আমলা তথা নামী লেখক অনিতা অগ্নিহোত্রী বলেন, বাংলা নিজের মেয়েকে চায় বলা হয়, কিন্ত সেই বাংলার মেয়েরা কি চায় তা জানাও দরকার। মেয়েদের বৈষম্য, বঞ্চনা এখানে নিয়ম হয়ে গেছে। রাজ্যে মেয়েদের কাজে যুক্ত হওয়ার হার ও জাতীয় হারের থেকে কম। এর জন্য মেয়েদের নিরাপত্তা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রতন খাসনবিশ রাজ্যের মাথা পিছু বার্ষিক আয়ের কথা তুলে বলেন, এই ক্ষেত্রে ওড়িশারও নীচে এই রাজ্য। এখানে বেকারির হার কম বলে সরকারের দাবির নেপথ্যে আছে মজুরির অভাবে অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া। সরকারের স্বাভাবিক ব্যয় কাটছাঁট করে মানুষের হাতে টাকা দেওয়া হচ্ছে। যা কাম্য নয় বলে ইঙ্গিত দেন।
আলোচনা সভায় সি পি এমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন। চলছে হুমকি সংস্কৃতি। ভয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে শপথ নিতে তিনি সবাইকে আহবান জানান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য।
প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর জম্মদিনের এই স্মরণ সভা তাঁর কথা ভেবে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।

Be the first to comment